বিষয়বস্তুতে চলুন

মৌমাছি

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
মৌমাছি, মৌমাছি
কোথা যাও নাচি নাচি
দাঁড়াও না একবার ভাই।
ওই ফুল ফোটে বনে
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই।
—নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য

মৌমাছি হলো মধু সংগ্রহকারী পতঙ্গবিশেষ। মৌমাছিকে মধুমক্ষিকা বা মধুকরও বলা হয়। পৃথিবীতে নয়টি স্বীকৃত গোত্রের অধীনে প্রায় কুড়ি হাজার প্রজাতির মৌমাছি আছে। মধু ও মোম উৎপাদন এবং ফুলের পরাগায়ণের জন্য মৌমাছি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। মৌচাক হলো মৌমাছির আবাসস্থল। এটি তৈরী হয় মোম জাতীয় পদার্থ দিয়ে। মৌমাছি সমাজবদ্ধ জীব। প্রত্যেকটি মৌচাকে মৌমাছিরা বসতিবদ্ধ হয়ে একটি বড় পরিবার বা সমাজ গড়ে বাস করে৷

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • ফাল্গুনে বিকশিত
    কাঞ্চন ফুল,
    ডালে ডালে পুঞ্জিত
    আম্রমুকুল।
    চঞ্চল মৌমাছি
    গুঞ্জরি গায়,
    বেণুবনে মর্মরে
    দক্ষিণবায়।
    • ফাল্গুন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রবিচিত্র, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৩
  • মৌমাছি, মৌমাছি
    কোথা যাও নাচি নাচি
    দাঁড়াও না একবার ভাই।
    ওই ফুল ফোটে বনে
    যাই মধু আহরণে
    দাঁড়াবার সময় তো নাই।
  • মৌমাছির সর্ব্বাঙ্গ—বিশেষতঃ পেটের তলার আগা-গোড়া বুরুসের মত ছোট লোমে ঢাকা থাকে। ফুলে মধু খাইতে বসিলে ঐ লোম দিয়া উহারা ফুলের রেণু সংগ্রহ করে। কুকুর ও ঘোড়া ছাই-গাদা ও ধূলায় গড়াগড়ি দিয়া কি-রকমে গায়ে ধূলামাটি মাখে, তোমরা তাহা নিশ্চয়ই দেখিয়াছ। মৌমাছিরা সুন্দর ফুল দেখিলেই ফুলের কেশরের উপর পড়িয়া লুটাপুটি খায়। ইহাতে উহাদের গায়ে ফুলের রেণু ধূলার মত আট্‌কাইয়া যায়।
    • জগদানন্দ রায়, মৌমাছি, পোকা-মাকড়— জগদানন্দ রায়, প্রকাশক— ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল— ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৯
  • ‘নই ঘোড়া, নই হাতি, নই সাপ বিচ্ছু,
    মৌমাছি প্রজাপতি নই আমি কিচ্ছু।
    মাছ ব্যাঙ গাছপাতা জলমাটি ঢেউ নই,
    নই জুতা নই ছাতা, আমি তবে কেউ নই!’
    • সুকুমার রায়, কিম্ভূত, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
  • গাছ ফুলের মধ্যে মধু সঞ্চয় করিয়া রাখে। মৌমাছি ও প্রজাপতি সেই মধু পান করিয়া যায়। মৌমাছি আসে বলিয়া গাছেরও উপকার হয়। ফুলে তোমরা রেণু দেখিয়া থাকিবে। মৌমাছিরা এক ফুলের রেণু অন্য ফুলে লইয়া যায়। রেণু ভিন্ন বীজ পাকিতে পারে না।
    • অব্যক্ত - জগদীশচন্দ্র বসু, তৃতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০
  • তোমরা নিশ্চয়ই মৌমাছির চাক দেখিয়াছ। যেখানে বেশ আলো বাতাস লাগে, অথচ রৌদ্র বা বৃষ্টির উৎপাত নাই, এমন জায়গায় ইহারা চাক বাঁধে। বাগানের গাছের ডালে বা বাড়ীর বারান্দা বা কড়ি বরগার গায়ে মৌচাক প্রায়ই দেখা যায়। হিমালয় পর্ব্বতের জঙ্গলে বুনো-মৌমাছিরা খুব বড় চাক প্রস্তুত করে। লোকে তাহা ভাঙিয়া মধু সংগ্রহ করে এবং তাহা বিক্রয় করে। তোমরা মৌচাকের সন্ধান পাইলে দূরে দাঁড়াইয়া চাকখানিকে ভালো করিয়া দেখিয়ো। দেখিবে, হাজার হাজার মাছি জটলা পাকাইয়া চাকের উপরে বিজ্-বিজ্ করিতেছে।
    • জগদানন্দ রায়, মৌমাছির চাক, পোকা-মাকড়— জগদানন্দ রায়, প্রকাশক— ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল— ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০১-২০২
  • মৌমাছি সে গুনগুনিয়ে
    খুঁজে বেড়ায় কা’কে,
    ঘাসের মধ্যে ঝিঁঝিঁ করে
    ঝিঁঝিঁ পোক ডাকে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাত ভাই চম্পা, কড়ি ও কোমল-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- পীপ্‌ল্‌স লাইব্রেরি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ (১২৯৩ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮১
  • মৌচাকে মৌমাছি
    ঝুম্ ঝুম্ নাচছে,
    ভোম‍‍রার পাখনায়
    রুম্ ঝুম্ বাজছে।
    • ভোরাই, সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪০
  • পরদিন তিনি আমাদিগকে শ্রীরামকৃষ্ণের একটী চমৎকার উপদেশ শুনাইলেন, তাহাতে অপরের গুণদোষদর্শিগণ মৌমাছি বা মাছির সহিত তুলিত হইয়াছে। যাহারা মধু অন্বেষণ করিয়া লয় তাহারাই মৌমাছি; আর যাহারা বাছিয়া বাছিয়া ঘায়ে বসে তাহারাই মাছি।
    • ভগিনী নিবেদিতা, স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা, পঞ্চম সংস্করণ, প্রকাশক- উদ্বোধন কার্য্যালয়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৯
  • ফুলের রেণুর বড়ি পাকাইয়া মৌমাছিরা কি করে, তাহা বোধ হয় তোমরা জান না। উহাই মৌমাছির বাচ্চাদের প্রধান খাদ্য। আমরা ভাত ডাল দুধ খাইয়া বাঁচিয়া থাকি। মৌমাছির বাচ্চারা ফুলের রেণু না খাইলে বাঁচে না। ফুলের রেণুর বড়ির সঙ্গে একটু মধু এবং একটু জল মিশাইয়া মৌমাছিরা বাচ্চাদের জন্য উপাদেয় খাদ্য তৈয়ার করে। দেখ—ইহারা কত সৌখীন্ প্রাণী।
    • জগদানন্দ রায়, মৌমাছি, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০০

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]