রাত্রি
অবয়ব

নিরাশ হয়োনা, ভাই,
কোনোদিন যাহা পোহবে না, হায়,
তেমন রাত্রি নাই।
―ফ্রেডরিখ শিলার, অনুবাদ করেছেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
রাত্রি বা রাত সময়ের একটি অংশ যা দিগন্তের সূর্য ডুবে যাবার পর থেকে শুরু হয়। গোধূলি লগ্ন বা ঈষৎ অন্ধকার হবার মাধ্যমে রাতের আবির্ভাব হয়। রাত্রির বিপরীত হলো দিন। রাতের শুরু এবং শেষের সময় ঋতু, অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং সময় অঞ্চলের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। যে কোনো সময়ে, পৃথিবীর একটি অংশ যখন সূর্যের আলোয় আলোকিত হয় তখন তাকে আমরা দিন বলি। পৃথিবীর অন্য পৃষ্ঠে তখন সূর্যের ছায়া হিসেবে আলো আটকে যায় বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই অবস্থাকেই আমরা সহজভাষায় রাতের অন্ধকার বা রাত বলে থাকি।
উক্তি
[সম্পাদনা]- তোমার হৃদয়ে গায়ে আমাদের জনমানবিক
রাত্রি নেই। আমাদের প্রাণে এক তিল
বেশি রাত্রির মতো আমাদের মানবজীবন
প্রচারিত হ’য়ে গেছে ব’লে—
নারি,
সেই এক তিল কম
আর্ত রাত্রি তুমি।
- সঘন গহন রাত্রি, ঝরিছে শ্রাবণধারা—
অন্ধ বিভাবরী সঙ্গপরশহারা।
চেয়ে থাকি যে শূন্যে অন্যমনে
সেথায় বিরহিণীর অশ্রু হরণ করেছে ওই তারা
অশথপল্লবে বৃষ্টি ঝরিয়া মর্মরশব্দে
নিশীথের অনিদ্রা দেয় যে ভরিয়া।
- আশা রেখো মনে, দুর্দ্দিনে কভু
নিরাশ হয়োনা, ভাই,
কোনোদিন যাহা পোহবে না, হায়,
তেমন রাত্রি নাই।- তিনটি কথা - ফ্রেডরিখ শিলার, অনুবাদ করেছেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- একদিন রাত্রিতে আমি ঘরে শুইয়াছিলাম। শেষ রাত্রিতে ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল। আর নিদ্রা হইল না। এ-পাশ ও-পাশ করিতে লাগিলাম। চঞ্চলার জন্য একখানি নয়হাতি কাপড় কিনিয়াছিলাম। মনে করিলাম, বিছানায় আর বৃথা পড়িয়া থাকিব না। কাপড়খানি তাহাকে দিয়া আসি। এলোকেশীর ভয়ে কাপড়খানি এক স্থানে লুকাইয়া রাখিয়াছিলাম। কাপড়খানি লইয়া চঞ্চলাদের গ্রাম অভিমুখে আমি হাঁটিয়া চলিলাম। যাইতে যাইতে সকাল হইয়া গেল। সূর্য্যোদয়ের পরে বড় রাস্তায় গিয়া উঠিলাম।
- ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, ডমরু-চরিত - ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ, কলকাতা, প্রকাশসাল - ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮
- প্রথম রাত্রিতে যে-সকল উজ্জ্বল তারা দেখা যায়, তাহাদের তিনটি গ্রহ। একটি লালচে রঙ্গের, সেটিকে পশ্চিমে দেখা যায়, আর প্রথম রাত্রিতেই সে অস্ত যায়। এটি মঙ্গলগ্রহ। ইংরাজিতে ইহার নাম Mars। আর-একটি প্রথম রাত্রির তারার মধ্যে সকলের চাইতে বড়। ইহার নাম বৃহস্পতি (Jupiter)। গ্রহদের মধ্যে এইটিই সকলের চাইতে বড়।
- জীবনের দীর্ঘ রাত্রি হইতেছে ভোর?
তবে এস, এস আশা,
তবে হাস, হাস আশা,
তবে কেন হেন ম্লান মুখ?
নিরাশার মত দীন বেশ?
তবে কেন এত ভয়ে ভয়ে
এ হৃদয়ে করিস্ প্রবেশ?
- নিরবচ্ছিন্ন বর্ষার রাতে এখনও নিশ্চয় কলকাতার একটি কর্দমাক্ত নোংরা ও কুৎসিত পথের ধার কেরাসিনের ডিবিয়ার ম্লান আলো দেখা যায়। ডিবিয়ার ধূমবহুল শিখাকে শীর্ণ হাতে সযত্নে বৃষ্টির ঝাপটা হইতে আড়াল করিয়া গভীর রাত্রি পর্যন্ত এখনও নিশ্চয় বিগতযৌবনা রূপহীনা রজনী এক রাত্রের অতিথির জন্য হতাশনয়নে পথের দিকে চাহিয়া প্রতীক্ষ৷ করে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র, সংসার সীমান্তে, প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠ গল্প, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- নাভানা, কলকাতা, প্রকাশসাল- জুলাই ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (শ্রাবণ ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৪
- শ্রাবণের অন্ধকার রাত্রি। থম্থমে মেঘ করিয়া আছে, আকাশে একটি তারা দেখা যায় না; অন্ধকার ঘরে দুইজনে চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। একজনের চাদরে দিয়াশলাই এবং বাতি বাঁধা ছিল। বর্ষাকালের দিয়াশলাই বহু চেষ্টাতেও জলিল না— যে লণ্ঠন সঙ্গে ছিল তাহাও নিবিয়া গেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবিত ও মৃত, গল্পগুচ্ছ (প্রথম খণ্ড), প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৪১
- রাত্রি প্রায় শেষ হইয়াছে—কলুরা ঘানি জুড়ে দিয়েছে—বল্দেরা গোরু লইয়া চলিয়াছে—ধোবার গাধা থপাস২ করিয়া যাইতেছে—মাছের ও তরকারির বাজরা হু২ করিয়া আসিতেছে—ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা কোশা লইয়া স্নান করিতে চলিয়াছেন—মেয়েরা ঘাটে সারি২ হইয়া পরস্পর মনের কথাবার্ত্তা কহিতেছে।
- প্যারীচাঁদ মিত্র, আলালের ঘরের দুলাল - প্যারীচাঁদ মিত্র, দ্বিতীয় সংস্করণ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ (১২৭৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯
- আরও মনে পড়ে শ্রাবণের গভীর রাত্রি, ঘুমের ফাঁকের মধ্য দিয়া ঘনবৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মনের ভিতরে সুপ্তির চেয়েও নিবিড়তর একটা পুলক জমাইয়া তুলিতেছে, একটু যেই ঘুম ভাঙিতেছে মনে মনে প্রার্থনা করিতেছি সকালেও যেন এই বৃষ্টির বিরাম না হয় এবং বাহিরে গিয়া যেন দেখিতে পাই, আমাদের গলিতে জল দাঁড়াইয়াছে এবং পুকুরের ঘাটের একটি ধাপও আর জাগিয়া নাই।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় রাত সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিমিডিয়া কমন্সে রাত্রি সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে।
উইকিঅভিধানে রাত্রি শব্দটি খুঁজুন।