বাবুই
অবয়ব

চাতক বারি যাচে রে?
সে আমাদের বাংলা দেশ,
আমাদেরি বাংলা রে!—সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
বাবুই প্লোসিডি গোত্রের অন্তর্গত চড়ুইসদৃশ পাখি। চমৎকার বুনটের ঝুড়ির মতো বাসা তৈরির জন্য পাখিটি সুপরিচিত। এজন্য বাবুই পাখিকে অনেকে তাঁতি পাখিও বলে। এদের বাসার গঠন বেশ জটিল আর আকৃতি খুব সুন্দর। কয়েক প্রজাতির বাবুই একাধিক কক্ষবিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে পারে। এরা দলবদ্ধভবে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। বাবুই পাখির বাসা দেখতে অনেকটা উল্টানো কলসির মতো। বাসা বানাবার জন্য বাবুইকে খুব পরিশ্রম করতে হয়। অনেকে বলেন, রাতে বাসায় আলো জ্বালার জন্য বাবুই জোনাকী পোকা ধরে এনে গুঁজে রাখে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- বাবুই পাখীরে ডাকি’ বলিছে চড়াই,—
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই?
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে!”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তায়!
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
পাকা হোক্, তবু ভাই, পরের ও-বাসা;
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর—খাসা!"- স্বাধীনতার সুখ - রজনীকান্ত সেন, অমৃত, প্রকাশক- অমিয়রঞ্জন মুখােপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬
- বুদ্ধুর বাপের ক্ষেতে ধান পেকেছে, আর দলে-দলে বাবুই এসে সেই ধান খেয়ে ফেলছে। বুদ্ধর বাপ ঠকঠকি বানিয়ে তাই দিয়ে বাবুই তাড়াতে যায়। কিন্তু ঠকঠকির শব্দ শুনেও বাবুই পালায় না। তখন সে রেগেমেগে বললে, ‘বেটারা! এবার যদি ধরতে পারি, তাহলে ইঁড়ি-মিড়ি-কিঁড়ি-বাঁধন দেখিয়ে দেব!’
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বুদ্ধুর বাপ, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৬
- বাবুই কোথা বাসা বোনে—
চাতক বারি যাচে রে?
সে আমাদের বাংলা দেশ,
আমাদেরি বাংলা রে!- কোন দেশে - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কাব্য-সঞ্চয়ন, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩
- বাবুই পাখির বাসা তোমরা অনেকেই দেখেছ বোধ হয়। কেমন সন্দর করে শুকনো ঘাস দিয়ে বুনে তার বাসাটি সে তৈরি করে। পাছে কোনো জন্ত বা সাপ বাসা আক্রমণ করে, সেইজন্য বাসায় ঢুকবার রাস্তা তলার দিকে। শত্রুকে জব্দ করবার আর-একটা উপায় তারা করেছে—অনেক সময় বাসার গায়ে আর-একটা গর্তের মতো মুখ তৈরি করে রাখে, সেটা কেবল ঠকাবারই জন্যে, তার ভিতর দিয়ে বাসার মধ্যে ঢোকা যায় না।
- সুকুমার রায়, পাখির বাসা, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২৩
- হৈ রে বাবুই হৈ, রাঙা ধানের থৈ,
খোকামণির বিয়ে দেবো, পয়সা কড়ি কৈ?
ফলার হবে সরা সরা খৈ আর দৈ,
সারারাত খুঁজে মলাম্, গুড়-হাড়িটে কৈ!- যোগীন্দ্রনাথ সরকার, হৈ রে বাবুই, খুকুমণির ছড়া - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৭
- বেদেনীর বিশ্বাস হইল না। বৈঠা বাহিয়া তার বাবুই পাখির বাসার মত নৌকাখানা কিশোরদের নৌকার সঙ্গে মিশাইল। সে তার নিজের নৌকার দড়ি হাতে করিয়া লাফ দিয়া কিশোরের নৌকায় উঠিল, ডরার দিকে চাহিয়া বলিল, ‘কি জাল্লা, মাছ না নাই! চাইর পয়সার মাছ দেও।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক-পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৭
- খেলার বেলা শেষ হ’য়ে আসে, তিন পহরের রোদ ছায়ার কাছেই মাদুর বেছায়, খেলা ভুলে’ খোকা শুয়ে পড়ে রোদের কোলে মাথা রেখে, চেয়ে থাকে নীল আকাশে, তালগাছের শিয়রে, বাবুইয়ের বাসার দিকে। দূরে ডাকে পুতুলওয়ালা—খেলনা চাই চুড়ি চাই।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, খেলার পুতুল, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪১
- ভিজছে বাবুই বাবলা-গাছে
কাঁপছে তনুখান—
আবার সুরু ঝুরু ঝুরু
বাদল ঝরা গান।- সুনির্মল বসু, আবার সুরু ঝুরু ঝুরু বাদল ঝরা গান, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৮
- রাজপুত্র বলল, “তোমার নাম কি? আর তুমি করতেই-বা পার কি?” সে বলল, “আমার নাম ঢ্যাঙারাম। আমি যত ইচ্ছা লম্বা হতে পারি। ঐ যে তালগাছের আগায় বাবুইয়ের বাসা দেখছ, ওটিকে আমি এখনই পেড়ে দিতে পারি; তাতে আমার গাছে চড়বারও দরকার হবে না।” এই বলে সে দেখতে দেখতে তালগাছের মতো লম্বা হয়ে গেল আর পাখির বাসাটি পেড়ে নিয়েই চট করে আবার বেঁটে হয়ে গেল।
- সুকুমার রায়, তিন বন্ধু, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৪
- কোন্নগরে কতরকম লোক আসত। এক নাপিত ছিল, সে পোষা কাঠবেড়ালির ছানা এনে দিত; খালি বাবুইয়ের বাসা জোগাড় করে এনে দিত। কোনোদিন বহুরূপী এসে নাচ দেখাত। কত মজা। কিছু কিছু পড়াশুনোও করতে হত, শুধু খেলা নয়।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জোড়াসাঁকোর ধারে- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় বাবুই সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে বাবুই শব্দটি খুঁজুন।