বিষয়বস্তুতে চলুন

কোকিল

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
তুমি বসন্তের কোকিল, শীত বর্ষার কেহ নও। -বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কোকিল বাংলার একটি সুপরিচিত পাখি। এদের চমৎকার গান বসন্তকালকে মুখরিত করে রাখে। কোকিল কুকুলিডি গোত্রের অন্তর্গত একদল পাখি। সারা পৃথিবীতে কোকিলের প্রায় ২৬টি প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ কোকিল লম্বা ও সরু গঠনবিশিষ্ট, এদের সামান্য বাঁকানো ঠোঁট, লম্বা লেজ এবং দীর্ঘ ডানা রয়েছে। কোকিল পরের বাসায় ডিম পেড়ে চলে যায়, তাই এদের আরেক নাম পরভৃত। বাংলা ভাষায় কোকিল নিয়ে বেশ কিছু বাগধারা চালু আছে, যেমন কোকিলকণ্ঠী মানে হল মধুর গানের গলা বিশিষ্ট, আবার বসন্তের কোকিল মানে হল সুসময়ের বন্ধু।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • তুমি বসন্তের কোকিল, বেশ লোক। যখন ফুল ফুটে, দক্ষিণ বাতাস বহে, এ সংসার সুখের স্পর্শে শিহরিয়া উঠে, তখন তুমি আসিয়া রসিকতা আরম্ভ কর। আর যখন দারুণ শীতে জীবলোকে থরহরি কম্প লাগে, তখন কোথায় থাক, বাপু? যখন শ্রাবণের ধারায় আমার চালাঘরে নদী বহে, যখন বৃষ্টির চোটে কাক চিল ভিজিয়া গোময় হয়, তখন তোমার মাজা মাজা কালো কালো দুলালি ধরণের শরীরখানি কোথায় থাকে? তুমি বসন্তের কোকিল, শীত বর্ষার কেহ নও।
  • কোকিল একবার ডাক্‌লেই যে বসন্ত সমাগত হয় এমন ভাব্‌লে চলে না। সে বসন্তের অগ্রদূত মাত্র।
    • প্রফুল্লচন্দ্র রায়, অন্ন-সমস্যা ও তাহার সমাধান, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রবন্ধ ও বক্তৃতাবলী, লেখক- প্রফুল্লচন্দ্র রায়, প্রকাশক-চক্রবর্তী চ্যাটার্জি এণ্ড কোম্পানি লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৬৬
  • ছাতারের বাসায় কোকিলের ডিম্, সে ডিমের ভিতর কোকিলের কুহুতান সুষুপ্ত থাকে—ছাতারে তা দিয়ে ফোটায় বলে' কি বাহাদুরী তার? ক্ষুদ্র বীজের ভেতর শেফালির সৌরভ নিদ্রিত, উড়ে বেটা গাছের গোড়ায় জল দেয় বলে' কি সৌরভের স্রষ্টা সে? জগাই মাধাই যদি খাঁটি সোনা না হ'য়ে প্রকৃতই খাঁটি লোহা হ'ত, তাদের লৌহহৃদয়কে গিল্টি করা চলত, সোনা করা সম্ভব হ'ত না।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, পাগলের সভা, কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক- প্রবর্ত্তক পাবলিশিং হাউস, প্রকাশস্থান- চন্দননগর, প্রকাশসাল- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৩
  • আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনদিন সে?
    কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়।
    • সুকুমার রায়, আড়ি, বিবিধ কবিতা, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭১
  • কাকের বাসায় কোকিলশিশু প্রায়ই পুষ্ট হয়, এই জন্য পরভৃৎ কাকের নামান্তর দাঁড়াইয়াছে এবং কোকিল পরভৃত সজ্ঞায় অভিহিত হইয়াছে। অনেক সময়ে এরূপ দেখা যায় যে পরভৃৎ শুধু কাক নয়, কাকেতর বিহঙ্গ (যথা Pica ructica) যাহার নীড়ে কোকিলের ডিম্ব রক্ষিত হয়, তদ্রূপ পরভৃত শুধু কোকিল নয়, কোকিলের জ্ঞাতি-সম্পর্কীয় পক্ষিকুল, যাহারা বিহঙ্গতত্ত্ববিদ্‌গণের মতে কোকিলের সহিত এক বৃহৎ পরিবারভুক্ত।
    • সত্যচরণ লাহা, নাটকে পাখীর পরিচয়, পাখীর কথা - সত্যচরণ লাহা, তৃতীয় ভাগ, প্রকাশক- বেঙ্গল বুক কোম্পানী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৫
  • ময়ূর নাচে কোকিল ডাকে কিন্তু মানুষ ঐটুকু দেখেই খুসি হ’য়ে নকল নিতে বসে না—সে নিজের নাচ নিজের সাড়া খুঁজে খুঁজে বার করে। তার নাচ ময়ুরের নাচের তার সাড়া কোকিলের সাড়ার প্রতিধ্বনি করে না, নতুন সুরে নতুন ছন্দে প্রকাশ পায়।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রূপবিদ্যা, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫৭
  • মাঘের শীত গিয়া ফাল্গুনের বসন্ত আসিল। পাগলের বাড়ির মন্দার গাছে প্রায়ই একটা কোকিল ডাকে। অনন্তর মা সুযোগ পাইলেই গিয়া দাঁড়ায়। তাকে এক নজর দেখিয়া আসে।
    • অদ্বৈত মল্লবর্মণ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক-পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯৬
  • মেঠো পথে মিশে আছে কাক আর কোকিলের শরীরের ধূল,
    কবেকার কোকিলের, জান কি তা? যখন মুকুন্দরাম, হায়,
    লিখিতেছিলেন ব’সে দু’-পহরে সাধের সে চণ্‍ডিকামঙ্গল,
    কোকিলের ডাক শ‍ুনে লেখা তাঁর বাধা পায়—থেমে থেমে যায়;—
    অথবা বেহ‍ুলা একা যখন চলেছে ভেঙে গাঙুড়ের জল
    সন্ধ্যার অন্ধকারে, ধান ক্ষেতে, আমবনে, অস্পষ্ট শাখায়
    কোকিলের ডাক শুনে চোখে তার ফুটেছিল কুয়াশা কেবল।
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৯
  • কমলাকান্তের মনের কথা, এ জন্মে বলা হইল না—যদি কোকিলের কণ্ঠ পাই—অমানুষী ভাষা পাই, আর নক্ষত্রদিগকে শ্রোতা পাই, তবে মনের কথা বলি। ঐ নীলাম্বর মধ্যে প্রবেশ করিয়া, ঐ নক্ষত্রমণ্ডলীমধ্যে উড়িয়া, কখন কি কুহু বলিয়া ডাকিতে পাইব না? আমি না পাই, তুই কোকিল আমার হয়ে এক বার ডাক দেখি রে!
  • মনে হল মাতৃভূমিতে চৈত্র মাসের কথা, বৃক্ষরাজি তখন নব পল্লবে শোভিত হয়, নানা রকমের পাখী তখন সুমধুর রাগিনীতে গান করতে থাকে। কোকিল কুহু কুহু স্বরে ডাকে। এখানে এসেও কোকিলের ডাক শুনলাম, কোকিলের ডাক আমাকে বসিয়ে রেখেছিল। সব ভুলে গিয়েছিলাম, হঠাৎ মনে হল আমি অবাস্তবী ভাবপ্রবণ।
    • রামনাথ বিশ্বাস, নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- ডি. এম. লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]