বিষয়বস্তুতে চলুন

পুকুর

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শ‍ুধু পায়,
শামুক গ‍ুগলিগ‍ুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে,—
জীবনানন্দ দাশ

পুকুর হলো এক ধরনের স্থির ক্ষুদ্র জলাশয় যা হ্রদের চেয়ে ছোট। এটি একটি ছোট ও অগভীর জলরাশি এবং মিষ্টি জলের একটি ছোট এলাকা। এর প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে থাকে উদ্ভিদ, গুল্ম বা শেওলা।

উক্তি[সম্পাদনা]

  • মেছনীরা ডাকিতেছে, “মাছ নেবে গো! কুল পুকুরের সস্তা মাছ, অমনি ছাড়ব—বোঝা বিক্রী হলেই বাঁচি।” কেহ ডাকিতেছে, “মাছ নেবে গো—ধন সাগরের মিঠা মাছ—যে কেনে তার পুনর্জন্ম হয় না—ধর্ম্ম অর্থ কাম মোক্ষ বিবির মুণ্ডে পরিণত হইয়া তার ঘর দ্বারে ছড়াছড়ি যায়, যার সাধ্য থাকে কিনিবে।
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বড় বাজার, কমলাকান্তের দপ্তর, কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ (১২৯২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৪
  • যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শ‍ুধু পায়,
    শামুক গ‍ুগলিগ‍ুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে,—
    তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক-ছাওয়া মাঠে খুঁজে,
    ঠেস্ দিয়ে ব’সে আর থাকি নাকো যদি বুনো চাল্‌তার গায়,
    তাহ’লে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকারে মৃত্যুর আহ্বান—
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
  • বলতে-বলতেই সে দেখল যে খানিক দূরে একটি পুকুর রয়েছে, সেই পুকুরের ধারে গাছপালার আড়ালে একটি কুঁড়ে ঘর। চাকরটি পুকুরের ধারে তার পুঁটলিটি রেখে, সেই ঘরের কাছে গিয়ে দেখলে সেখানে একটি ছোট মেয়ে বসে আছে।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, পিঁপড়ে আর হাতি আর বামুনের চাকর, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৪
  • দোতলার জানলা থেকে চোখে পড়ে
    পুকুরের একটি কোণা।
    ভাদ্রমাসে কানায় কানায় জল।
    জলে গাছের গভীর ছায়া টলটল করচে
    সবুজ রেশমের আভায়।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পুকুর ধারে, পুনশ্চ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
  • রাজবাড়িতে যাবার যে পথ, সেই পথের ধারে প্রকাণ্ড দেয়াল, সেই দেয়ালের পাশে ব্যাঙেদের পুকুর। সোনাব্যাঙ, কোলাব্যাঙ, গেছোব্যাঙ, মেঠোব্যাঙ—সকলেরই বাড়ি সেই পুকুরের ধারে।
    • সুকুমার রায়, ব্যাঙের রাজা, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৭৯
  • হাঁসের ছানার মতাে পাখনায় ভিজে
    ছােটো এক পুকুরের পাড়ে
    আমরা সেখানে থাকি;
    • জীবনানন্দ দাশ, শিকার (সংলাপ কবিতা), বনলতা সেন- জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- নিউ স্ক্রিপ্ট, কলকাতা, অষ্টম মুদ্রণ: অগ্রহায়ণ ১৪২৪ (নভেম্বর ২০১৭), পৃষ্ঠা ৮৬
  • তোমরা আমাদিগকে দেখিতে পাইলে, আর মেঘ বলিয়া ডাকিলে। যখন আমরা পড়িতে লাগিলাম, তখন তোমরা বলিলে ‘বৃষ্টি হইতেছে’। আমাদের কেহ কেহ তোমাদের পুকুরে পড়িলাম। কেহ কেহ অন্য স্থানে পড়িয়াও শেষে কেমন করিয়া পুকুরেই আসিল। আর সকলের কি হইল বলিতে পারি না—’
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জলকণার গল্প, বিবিধ প্রবন্ধ, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৯৪৫
  • কার বহুড়ি
    বাসন মাজে?—
    পুকুর ঘাটে
    ব্যস্ত কাজে,—
    • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত,পাল্কীর গান, কুহু ও কেকা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩২
  • শান্তি অনায়াসে জীবানন্দকে কোলে তুলিয়া পুকুরের দিকে লইয়া চলিল। চিকিৎসক বলিলেন, “তুমি ইহাকে পুকুরে লইয়া গিয়া, রক্তসকল ধুইয়া দাও। আমি ঔষধ লইয়া যাইতেছি।”
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দমঠ, সপ্তম পরিচ্ছেদ, প্রকাশক- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৫ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১২৮
  • পুকুর-ডোবায় জল থৈ থৈ
    ছুটলো গাঙে বান,—
    আবার সুরু ঝুরু ঝুরু
    বাদল ঝরা গান।
    • সুনির্মল বসু, আবার সুরু ঝুরু ঝুরু বাদল ঝরা গান, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭
  • পুকুরের মধ্যে লাশ গুঁজিয়া রাখিয়া ঠ্যাঙাড়েরা পরবর্তী শিকারের উপর দিয়া এ বৃথা শ্রমটুকু পোষাইয়া লইবার আশায় নিরীহমুখে পুকুরপাড়ের গাছতলায় ফিরিয়া যাইত। গ্রামের উত্তরে এই বিশাল মাঠের মধ্যে সেই বটগাছ আজও আছে, সড়কের ধারের একটা অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিকে আজও ঠাকুরঝি পুকুর বলে। পুকুরের বিশেষ চিহ্ন নাই, চৌদ্দ আনা ভরাট্ হইয়া গিয়াছে— ধান আবাদ করিবার সময় চাষীদের লাঙলের ফালে সেই নাবাল জমিটুকু হইতে আজও মাঝে মাঝে নরমুণ্ড উঠিয়া থাকে।
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পথের পাঁচালী, চতুর্থ পরিচ্ছেদ, পথের পাঁচালী- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তম সংস্করণ, প্রকাশক- পি. মিত্র, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬
  • পুকুরের চারি পাড়ে লাগাইছি ধন্যা,
    বাছি বাছি তুলে পুষ্প রাজকুমারী কন্যা।
    পুকুরের চারি পাড়ে লাগাইছি বট,
    বিয়া ক’রে রেখে আসে মাথার মুকট!
    পুকুরের চারি পাড়ে লাগাইছি খাজুর,
    খাজুর খেয়ে চোছা ফেলে পাপিঠ বাদুড়!
    • যোগীন্দ্রনাথ সরকার, পুকুরের পাড়ে, খুকুমণির ছড়া - যোগীন্দ্রনাথ সরকার, প্রকাশক- সিটি বুক সোসাইটি, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩০৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৯
  • শীতল তখন কলসীটি নিয়ে আস্তে আস্তে পুকুর ঘাটে গেল। তখন ফাল্গুন মাস, পাড়া গাঁয়ে বেশ শীত। সেই শীতে পুকুর থেকে জল এনে, কাদা করে, সিঁদ বুজিয়ে, ভাল করে নিকিয়ে তবে শীতল ছুটি পায়।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, ঠানদিদির বিক্রম, গল্পমালা, উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮৩-৩৮৪
  • কাঁপছে ছায়া আঁকাবাঁকা, কলমি-পাড়ের পুকুর—
    জল খেতে যায় এক-পা-কাটা তিন-পেয়ে এক কুকুর।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, খেঁদুবাবুর এঁধো পুকুর, মাছ উঠেছে ভেসে, ছড়া-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৫
  • ডাঁশ-মাছিরা কখনই শুক্‌নো জায়গায় ডিম পাড়ে না। পুকুর বা ডোবার ধারে লতাপাতার গায়ে ইহাদের ডিম দেখা যায়। তার পরে সেই সকল ডিম হইতে শুঁয়ো-পোকার আকারের বাচ্চা বাহির হইলে, সেগুলি পুকুরের ধারের ভিজা মাটি বা কাদায় আশ্রয় লয়। পুকুরের পচা কাদায় ছোট পোকা-মাকড়ের অভাব নাই ডাঁশের বাচ্চারা সেই সকল পোকা-মাকড় খাইয়া বড় হয়।
    • জগদানন্দ রায়, ডাঁশ-মাছি, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯৯
  • পৃথিবীর কোনো পথে:নরম ধানের গন্ধ—কল্‌মীর ঘ্রাণ,
    হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল, চাঁদা সরপুঁটিদের
    মৃদু ঘ্রাণ, কিশোরীর চাল-ধোয়া ভিজে হাত—শীত হাতখান,
    কিশোরের পায়ে-দলা মুথাঘাস,—লাল লাল বটের ফলের
    ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা—এরি মাঝে বাংলার প্রাণ:
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫
  • সে সেই পুকুরে নেমে, চোঁ-চোঁ করে তার জল খেতে লাগল। যতক্ষণ সেই পুকুরে জল ছিল, ততক্ষণ খালি চোঁ-চোঁ শব্দ শোনা গিয়েছিল। দেখতে দেখতে সে সেই এক পুকুর জল খেয়ে শেষ করল! জল খেতে-খেতে তার পেটটা ফুলে আগে ঢাকের মতো হল, তারপর হাতির মতো হল, শেষে একেবারে পাহাড়ের মতো হয়ে গেল। এমনি করে পুকুরের সব জল খেয়ে বামুনের চাকর দেখল যে, সে জল আর কিছুতেই তার পেটে থাকতে চাচ্ছে না।
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, পিঁপড়ে আর হাতি আর বামুনের চাকর, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১২৪-১২৫
  • দিনের আলাে আসছে ঘােলা হয়ে। মন-খারাপ নিয়ে একবার ছাদটা ঘুরে আসা গেল, নীচের দিকে দেখলুম তাকিয়ে— পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো উঠে গিয়েছে। লোকজনের আনাগোনা আরম্ভ হয়েছে ঘাটে, বট গাছের ছায়া পড়েছে অর্ধেক পুকুর জুড়ে, রাস্তা থেকে জুড়িগাড়ির সইসের হাঁক শোনা যাচ্ছে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭
  • ধানকলের এক কোণায় ছােট একটি পুকুর। ইঞ্জিন ঘরের ওদিকে আরও একটা বড় পুকুর আছে। বয়লারের ছাই ফেলিয়া ছােট পুকুরটির একটি তীরকে ওরা ধীরে ধীরে পুকুরের মধ্যে ঠেলিয়া আনিয়াছে, পুকুরটা বুজাইয়া ফেলিবে বােধ হয়।
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, জননী, তৃতীয় পরিচ্ছেদ, জননী - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রকাশক- জেনারেল প্রিণ্টার্স য়্যাণ্ড পাব্লিশার্স লিঃ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৬

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]