বিষয়বস্তুতে চলুন

মোম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

মোম হলো বিবিধ শ্রেণির জৈব যৌগের সমষ্টি। এটি সাধারণ তাপমাত্রায় নমনীয় কঠিন পদার্থ। বিভিন্ন চর্বি, তেল, জৈব দ্রাবকে মোম দ্রবীভূত হয়। এদের গলনাঙ্ক সাধারণত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪° ফারেনহাইট) এর উপরে হয়ে থাকে। মোম জলে অদ্রবণীয় কিন্তু জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক মোম উদ্ভিদ এবং প্রাণী দ্বারা উৎপাদিত হয়। তবে কৃত্রিম মোম পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • যেজন দিবসে, মনের হরষে
    জ্বালায় মোমের বাতি;
    আশু গৃহে তার দখিবে না আর,
    নিশিতে প্রদীপ ভাতি।
  • মোমের পুতুল ঘুমিয়ে থাকুক দাঁত মেলে আর চুল খুলে,
    টিনের পুতুল চীনের পুতুল, কেউ কি এমন তুলতুলে?
    • সুকুমার রায়, আদুরে পুতুল, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৬৬
  • ময়লা এবং বিষের পরিবর্তে আমরা বরং মধু এবং মোম দিয়ে আমাদের শীতপিত্ত ভরাট করতে বেছে নিয়েছি; এইভাবে মানবজাতিকে দুটি মহৎ জিনিস দিয়ে সজ্জিত করা, যা মিষ্টি এবং হালকা।
  • চাকের জায়গা ঠিক হইলেই কর্ম্মী মাছির দল চাক গড়িতে লাগিয়া যায়। বোল্‌তারা কি-রকমে দাঁতে কাঠ গুঁড়া করিয়া কাগজের মত জিনিসে চাক তৈয়ারি করে, তাহা তোমরা শুনিয়াছ। মৌমাছিরা সে-রকম জিনিস চাকে ব্যবহার করে না। ইহাদের চাক মোম দিয়া প্রস্তুত। কিন্তু এই মোম তাহারা অন্য জায়গা হইতে সংগ্রহ করিয়া আনে না; কর্ম্মী মাছিরা নিজেদের দেহেই উহা প্রস্তুত করে। ইহাদের পেটের তলায় যে আংটির মত কঠিন আবরণ থাকে, তাহারি পাশে পাশে মোম জড় হয়। আমাদের গা হইতে যেমন ঘাম বাহির হয়, কর্ম্মী মাছিদের শরীর হইতে সেই রকমে মোম বাহির হয়। মধু খাইয়া হজম করিলেই পাত্‌লা আঁইসের মত উহা পেটের তলায় জমে। মাছিরা তাহাই সম্মুখের পা দিয়া খুঁটিয়া খুঁটিয়া মুখে পূরিয়া দেয় এবং দাঁতে চিবাইয়া ও লালার সঙ্গে মিশাইয়া জিনিসটাকে কাদার মত করিয়া ফেলে। ইহা দিয়াই চাকের ভিত পত্তন হয়। যে কর্ম্মীরা ভিত পত্তন করে, তাহারা ঠিক জায়গায় মুখের মোম রাখিয়া উড়িয়া অন্য কাজে চলিয়া যায়। মোম জমা হইয়াছে দেখিলেই আর এক দল কর্ম্মী মাছি দাঁত, মুখ ও পা দিয়া তাহা ছড়াইয়া চাক গড়িতে সুরু করে।
    • জগদানন্দ রায়, কর্ম্মী মৌমাছি, পোকা-মাকড়- জগদানন্দ রায়, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান প্রেস লিমিটেড, এলাহাবাদ, প্রকাশসাল- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২০৪-২০৫
  • মোমের পুতুল, লোমের পুতুল, আগলে ধরে হাতে,
    তবুও কেন হাবলা ছেলের মন ওঠে না তাতে?
    • সুকুমার রায়, খোকার ভাবনা, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬৮
  • ছবির বেলাতেও আসল ছবি আর তার নকল এবং তিনবর্ণ প্রতিলিপি এক লাবণ্য দেয় না, দিতে পারেও না। এই লাবণ্যের ছোঁয়াচ নিয়ে শিল্প-কাজের উচ্চনীচ ভেদ স্থির করা চলে। একটা মোমের পুতুলের লাবণ্যে আর আসল মানুষটির লাবণ্যে এই ভাবে ভেদাভেদ লক্ষ্য করি আমরা এবং বলে’ থাকি—আহা মেয়েটি যেন মোমের পুতুল।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লাবণ্য, বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৪৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৭৯-৩৮০
  • জালাল, এইডা (গলায় ফাঁস দেওয়ার দড়ি) আমার বালিশের নিচে রাখবি। এই, মোম কই? অহ, দড়িতে মোম লাগা। ফাঁসির দড়িতে মোম লাগে ক্যান? হুম? মোম ক্যান লাগায়? ফাঁসির দড়ি মাক্করের মতন তেলতেলা না হইলে গলার চামড়া কাইট্টা রক্তারক্তি হয়ে যাইতে পারে–মাথাটা খুইলাও পইড়া যাইতে পারে। মইরা যখন যাইবো এত কষ্ট দিয়া কি লাভ!
  • যে মোম তিমির কথা আগে বলিয়াছি তাহার মুখে কাঁচকড়া নাই কিন্তু তাহার মাথার মধ্যে একটা প্রকাণ্ড চৌবাচ্চা ভরা মোম থাকে। এই মোমের চমৎকার বাতি হয় এবং নানারকম মলম প্রভৃতি হয়। এই মোম চর্বি ও কাঁচকড়ার জন্য মানুষে সমুদ্রের নানা স্থানে বড়ো-বড়ো তিমিগুলিকে নিঃশেষ করিয়া এখন ছোটোখাটো তিমির পিছনে লাগিয়াছে।
    • সুকুমার রায়, তিমির ব্যবসা, সুকুমার রায় সমগ্র রচনাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী ও কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৪৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]