বিষয়বস্তুতে চলুন

শায়খ আহমাদুল্লাহ

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে

শায়খ আহমাদুল্লাহ একজন বাংলাদেশী ইসলামি ব্যক্তিত্ব, দাঈ, আলোচক ও সক্রিয় সামাজিক কর্মী। তিনি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • মেয়েকে বিয়ে দিতে ভালো পাত্র খুঁজছেন? ফজরের সময় মসজিদে মসজিদে তালাশ করুন।
  • নারীরা প্রেসিডেন্টের মতো। সে যেখানেই যায়, তার বডিগার্ড লাগবেই। নারীর বডিগার্ড হলো তার মাহরাম। সবচেয়ে সেরা বডিগার্ড তার বাবা, ভাই ও স্বামী।
  • "কাউকে কটূক্তি করা, গালি দেওয়া কিংবা আঘাত করাকে যদি আপনি ইসলামের সেবা মনে করেন, তাহলে আপনার ইসলামের শিক্ষক পরিবর্তন করা জরুরি।"
  • ফাগুনে হলুদ হলেন, ভ্যালেন্টাইনে লাল। সাদার জন্য প্রস্তুত তো কাল?
  • স্রোতের তালে গা ভাসিও না, ভাই। স্রোতের তালে গা ভাসাতে যোগ্যতা লাগে না, স্রোতের বিপরীতে চলতে যোগ্যতা লাগে।
  • তথাকথিত কাছে আসার পরেই তৈরি হয় সৃষ্টিকর্তার নাফরমানির গল্প, মা-বাবার অবাধ্যতার গল্প, প্রতারিত হওয়ার গল্প, পরিবার ধ্বংসের গল্প, খুন-ধর্ষণের গল্প, ময়লার ভাগাড়ে নবজাতক পড়ে থাকার গল্প, আত্মহননের গল্পসহ আরো বহু ভয়ংকর গল্প। সমাজ নষ্টের কারিগররা যিনার আগের গল্প শোনালেও পরের গল্পগুলো শোনায় না।
  • অন্য ধর্মাবলম্বীরা আমাদের ধর্মগ্রন্থ পড়ে না। তারা আমাদের কর্ম ও আচরণ দেখে। সুতরাং তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ করুন। আপনার আচরণ দেখে তারা ইসলামকে বিচার করবে; ইসলামের প্রতি আগ্রহী হবে।
  • ইহুদিদের যেসব পণ্য আপনি টাকা দিয়ে কিনছেন, বোমা হয়ে সেটা ফিলিস্তিনের মানুষের উপর পড়ছে। ইহুদিদের পণ্য বর্জন করুন। দেশি পন্য ব্যবহার করুন। এটি নিরীহ ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াবার সূবর্ণ সুযোগ।
  • আমরা যতই শিক্ষিত হই, ঈর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ি, জগৎজোড়া খ্যাতি লাভ করি— তবু দিনশেষে সুখ-দুঃখের কথা বলে হৃদয়কে ভারমুক্ত করার জন্য আমাদের গোপন একটি জায়গা দরকার। সেই জায়গাটির নাম রবের দরবার।
  • ধর্ম, রাজনীতি কিংবা বিয়ে-বিনোদন—যে নামেই হোক, মানুষকে অতিষ্ঠ করে, এমন বিকট আওয়াজ সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য। - (থার্টফাস্ট নাইটের আতশবাজি সম্পর্কে)
  • ইহুদিদের যেসব পণ্য আপনি টাকা দিয়ে কিনছেন, বোমা হয়ে সেটা ফিলিস্তিনের মানুষের উপর পড়ছে। ইহুদিদের পণ্য বর্জন করুন। দেশি পন্য ব্যবহার করুন। এটি নিরীহ ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াবার সূবর্ণ সুযোগ।
  • জীবনে যে যত বেশি চাপ নিতে পারে, আল্লাহ তাকে তত বড় করেন।
  • পিতা-মাতার আনুগত্য করা সন্তানের ওপর যেমন ফরয, তেমনি সন্তানের সঙ্গে ইনসাফ করাও পিতা-মাতার অবশ্য-কর্তব্য। আমাদের সমাজে পিতা-মাতার খেদমত জনপ্রিয় টার্ম, অন্যদিকে সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব অনালোচিত ও অবহেলিত। অথচ দুটোই ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ।
  • মানবতার সবচেয়ে বড় সেবা ও মানুষের সবচেয়ে বড় উপকার হলো, অনন্ত অসীমকালের জাহান্নামের আগুন থেকে তাকে বাঁচিয়ে দেয়া। চিরসুখের ঠিকানা জান্নাতে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেয়া, পথ দেখিয়ে দেয়া।
  • আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় রাতের শেষ প্রহর। রমজান উপলক্ষ্যে শেষ রাতে আমাদের উঠতেই হয়। সেই সুযোগে আমরা যদি সাহরির আগে-পরে দু-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ি, নির্জনে দোয়া ও মুনাজাতে মশগুল হই, তবে এই সামান্য সময়ের রাত্রিজাগরণ ও মিনতি আমাদের রমজানকে সার্থক করে দিতে পারে।
  • মেয়েটিকে তার পিতা-মাতা খাইয়ে-পরিয়ে বড় করে, শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই খুশিতে আপনার উচিত সবাইকে ওয়ালিমা খাওয়ানো। সেটা না করে অনেকে উল্টো দর কষাকষি করে কনের পিতার ওপর কয়েকশ লোক খাওয়ানোর বোঝা চাপিয়ে দেয়, এদের বরযাত্রী বলা হলেও আদতে তারা বদযাত্রী।
  • "আমাদের জীবনের মুহূর্তগুলোকে যদি একত্র করে ফিল্ম আকারে প্রদর্শন করা হয়, তবে কি সেই ফিল্ম সপরিবারে এবং সকল মানুষের সঙ্গে বসে দেখার মতো হবে? উত্তর যদি না-বাচক হয়, তাহলে আসুন— এখনি জীবনের ভালো ফিল্ম তৈরির পথে চলতে শুরু করি। এমন একটি জীবন যাপন করি, তাকে ফিল্ম বানালে যেন সপরিবারে দেখার মতো ফিল্ম হয়। সবার সামনে নিজেকে যেভাবে প্রদর্শন করি, বাস্তবেও তেমন হয়ে ওঠার চেষ্টা করি।"
  • "মনের মধ্যে কারো প্রতি ক্ষোভ রেখে নিজেকে কষ্ট দেবেন না। নিজের সুখের জন্যই মনটাকে ফ্রেশ রাখুন। জীবনকে উপভোগ করুন। কারো প্রতি ক্ষোভ হলে জ্বালা-পোড়ার কষ্ট তার নয়; বরং আপনারই হয়! সুতরাং ক্ষোভ নয়, ক্ষমা করুন। মনটাকে নির্ভার রাখুন।"
  • "মানুষের আসল শত্রু শয়তান। আদম-সন্তানের জান্নাতের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাই তার মূল মিশন। আর সে মিশন বাস্তবায়নের জন্য তার বড় হাতিয়ার হলো, মানুষকে ভোগবাদে ডুবিয়ে রাখা এবং স্বভাবজাত লজ্জাশীলতা নষ্ট করে দেওয়া।"
  • "আবেগ অনেকটা সফট ড্রিংকসের ঝাঁজের মতো। বেশি সময় থাকে না। অন্তরে যে আবেগ আছে সেটা বৈধ ভালোবাসার জন্য জমিয়ে রাখুন। আবেগ ও প্রেম যদি দুই নম্বর ভালোবাসায় খরচ করে ফেলেন তাহলে এক নম্বর ভালোবাসা যখন শুরু হবে তখন আপনার ভালোবাসার পুঁজিতে টান পড়বে। সুতরাং হারাম রিলেশনকে ‘না’ বলুন, পবিত্রতার পথে অবিচল থাকুন।"
  • "হে যুবক, এ সংস্কৃতি তোমার নয়। তোমার রব তো তোমাকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ সুমহান সংস্কৃতি দিয়েছেন ইসলামে। গভীর রাতে হারামে হারিয়ে, অপচয় করে, ভোগের উম্মাদনায় লিপ্ত হয়ে সারা বছর ভালো থাকার এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল অগ্নিপূজক ও প্যাগানদের। যেটাকে তুমি আবেগ বা সাংস্কৃতি বলছ, সেটা মূলত বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদীদের ব্যবসার পণ্য! এই অপসংস্কৃতির আড়ালে ওরা তোমার সম্পদ ও চেতনা-দুটোই হরণ করছে। একটু চোখটা মেলো প্লিজ।"
  • "নিজের ভুল স্বীকার করতে আমাদের ‘দ্বিধা’ হয়। কাছের মানুষের অন্যায়কে অন্যায় বলতে ‘দ্বিধা’ হয়। গরিব বয়স্ক লোককে সম্মান জানাতে ‘দ্বিধা’ হয়। বাসার কাজের লোককে নিজেদের মতো মানুষ ভাবতে দ্বিধা হয়। এমন কতো মন্দ ‘দ্বিধা’ আমরা পদে পদে লালন করি। এসব নিন্দনীয় ‘দ্বিধা’ দূরের জন্যে ওরা ক্যাম্পেইন করে না। ওরা ক্যাম্পেইন করে মানব-চরিত্রের অলংকার —‘সহজাত লাজুকতা’ ও হারামে লিপ্ত হওয়ার ‘দ্বিধা’ দূর করার জন্যে। যারা তরুণদের প্রশংসনীয় লাজ দূর করতে চায়, নির্মূল করতে চায় দেশীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, তাদের থেকেই বরং দ্বিধাহীন দূরে সরার গল্প আমাদের রচনা করতে হবে।"
  • "বিবাহের আগে একটু-আধটু জানাশোনা থাকলে বিবাহ-পরবর্তী বোঝাপড়াটা ভালো হয়, এ দাবি অনেকের। অথচ অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। সরাসরি বিবাহ করা আগের জেনারেশনের দাম্পত্য-জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া আজকের লিভ টুগেদার প্রজন্মের চেয়ে ভালো, তাদের ভালোবাসা আমাদের চেয়ে নিখাদ এবং তাদের সম্পর্ক আজকের জেনারেশনের চেয়ে বেশি টেকসই ছিলো। সুতরাং প্রিয় যুবসমাজ, দৃঢ়তার সাথে হারামকে না বলুন। হালাল সম্পর্কের জন্য অপেক্ষা করুন। শয়তানের ফাঁদে পা না দিয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে থাকুন। জোয়ারে গা না ভাসিয়ে স্রোতের বিপরীতে চলতে শিখুন।"
  • "অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যারা বিয়ের আগে অবৈধ প্রেমে অনেক বেশি আবেগ-কাতর থাকেন, বিয়ের পর স্ত্রীর প্রতি অতটা আবেগ ধারণ করেন না। এর কারণ হারামের প্রতি মোহ মানুষকে হালালের আগ্রহ থেকে বঞ্চিত করে। হালালের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করে। সুতরাং শুভার্থী হিসেবে তরুণ-যুবকদের প্রতি আমার আবেদন— অন্তরের আবেগ জমিয়ে রাখুন বৈধ ভালোবাসার জন্য, এটি পাওয়ার অধিকার যার তার জন্য। আবেগ ও প্রেম যদি অপাত্রে অপচয় করে ফেলেন, তা হলে যথার্থ পাত্রে খরচ করার সময় তা অবশিষ্ট থাকবে না।"
  • "রাজা-বাদশারাও যে সুখভোগের সুযোগ পায়নি, বরং স্বপ্নেও কল্পনা করেনি, তা আমরা সহজেই উপভোগ করছি প্রতিনিয়ত! মহান রব অগণিত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন আমাদের। আপনি চোখ দুটো যত বেশি মেলবেন তত বেশি মাথাটা নিচু হয়ে আসবে। এরপরও আমরা অনেকে ভাগ্য নিয়ে বিলাপ করি!"
  • "স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা মনোমালিন্যে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দাম্পত্য-সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে, এমনকি অনেক সময় বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছাড়ে। কলহ নিরসনের ভার দম্পতির ওপর ছেড়ে দিলে এবং বাইরের মানুষের ইন্টারফেয়ার না থাকলে অধিকাংশ পারিবারিক সমস্যা আপনাতেই দূর হয়ে যায়।"
  • "‘খেলা’ মানসিক রিফ্রেশমেন্ট ও শরীর চর্চার একটি উপকরণ মাত্র। শরীয়ার সীমানায় থেকে তা থেকে উপকৃত হবেন একজন ঈমানদার। কিন্তু আখিরাত বিশ্বাসী মানুষ, যার প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যার প্রতিটি কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ হচ্ছে হিসাবের খাতায়, 'খেলা'র মতো তুচ্ছ বিষয়ে মেতে থাকা তাকে মানায় না।"
  • "দুনিয়াতে মোবাইলের ভার বহন করা অনেক সহজ হলেও আখেরাতে এর দায়ভার বহন করা অনেক কঠিন হতে পারে।"
  • "ঠকে গেলেও বিশেষ ক্ষতি নেই। এইটুকু জীবন কোনো না কোনোভাবে শেষ হয়েই যাবে। কিন্তু যারা ঠকিয়েছিল, প্রতারণা করেছিল, হক নষ্ট করে ছিল, তারা কীভাবে দীর্ঘশ্বাসটা নিশ্চিন্তে নেবে? ঠকিয়ে যারা ভাবছে জিতে গেল, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।"
  • "প্রিয়নবী (সা.)-কে শত্রুরাও বিশ্বস্ত মনে করত, অথচ আমাদেরকে আজ কাছের লোকেরাও বিশ্বাস করতে পারে না!"
  • প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের জন্ম থেকে ওয়াফাত পর্যন্ত তার সমগ্র জীবনের পুরো বৃত্তান্ত এক নজরে জানার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ তাআলা। অর্থাৎ নবী আলাইহিস সালাতু সালামের জন্ম থেকে ওয়াফাত পর্যন্ত প্রতিবছরে কখন কি ঘটেছে কখন কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী তিনি হয়েছেন এবং কোন চ্যালেঞ্জ কিভাবে তিনি মোকাবেলা করেছেন শুধু এক নজরে আমরা তার জীবনটাকে জানার চেষ্টা করবো। যার বৃত্তান্ত বা বিস্তারিত জানবার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে এক বা একাধিক সিরাত গ্রন্থ কিংবা কোন সিরিজ সিরাত আলোচনা শুনতে হবে। (শৈশব) ইনশাআল্লাহ তাআলা তার জন্মের সন সম্পর্কে নিশ্চয়ই আমরা জানি ৫৭১ মতান্তরের ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ এই সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। যেই বছর হস্তি বাহিনী আক্রমণ চালানোর উদ্দেশ্যে ইয়ামান থেকে এসেছিল মক্কায় এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা সূরা ফিলের মধ্যে যে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেই হস্তি বাহিনীর অর্থাৎ আমাল ফিল যেটাকে বলা হয় সেই বছর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দুনিয়ার আলো তিনি দেখেছেন। জন্মের কয়েক মাস আগেই ভালোবাসার জন্মদাতা পিতা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যান। মাতৃগর্ভেই তিনি বাবাকে হারান। এরপর যথারীতি বাবার পক্ষ থেকে দাদা অভিভাবক হয়ে তার নামকরণ করেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। জন্মের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তার জীবনে আরো বিপদ আসে। কিন্তু জন্মের পর পর তিনি প্রথম মায়ের দুধের পাশাপাশি যার দুধ পান করেছেন তিনি ছিলেন সুয়াইবা নামক একজন ক্রীতদাসী। যিনি আবু লাহাব, তার চাচা আবু লাহাবের যিনি কৃতদাসী ছিলেন, তার দুধ তিনি পান করেন। এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে তার জন্য বড় পরীক্ষার বিষয় হলো শৈশবে তার মাকে তিনি হারান এবং মাকে হারান বাবার মৃত্যুর পর। বাবার মৃত্যু হয়েছিল মক্কার বাইরে। সে বাবার কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে মায়ের সাথে গিয়েছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম, শিশু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম সে মদিনার কাছাকাছি এলাকায় ফেরার পথে আবুয়া নামক জায়গায় তার মায়ের মৃত্যু হয় এবং মা আমেনা, তাকে আবুয়া নামক জায়গায় দাফন করা হয়েছে। এখনো তার কবর সেখানে মক্কা এবং মদিনার মধ্যবর্তী একটি জায়গায়। কৃত দাসী ছিলেন। মাকে দাফন করে দাসীর সাথে শিশু মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মক্কায় ফিরে আসেন অর্থাৎ বাবা মা দুজনকে তিনি শৈশবে হারিয়ে ফেলেন। আরবের মানুষের ঐতিহ্যবাহী ফ্যামিলিগুলোর সম্ভ্রান্ত ফ্যামিলিগুলোর একটা নিয়ম ছিল যে তারা সন্তানের দুগ্ধ দানের জন্য এবং তাদেরকে গ্রামীণ কালচার যেখানে কোন প্রকার সংমিশ্রণ নাই বিশেষ করে ভাষার কোন সংমিশ্রণ নাই সেই জায়গায় বাচ্চাকে পাঠানো হতো ছোটবেলায় যাতে করে সে সেটাকে রপ্ত করতে পারে মক্কা যেহেতু হজের স্পট হওয়ার কারণে কাবার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ আসে বিভিন্ন ভাষাভাষী আসে। আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে। একেবারে পিওর মক্কা ভাষীর যে ভাষা সেই ভাষাটার মধ্যে কিছুটা সংমিশ্রণ এখানে ঘটবার সংখ্যা আছে। এজন্য শিশুকে বাহিরে পাঠানো হতো। সব মিলিয়ে শৈশবের একটা সময় হালিমা সাদিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা তার দুধ মাঝে তার কাছে তিনি বড় হন এবং দুধ পানের পরও আরো কিছুকাল তিনি সেখানে কাটান। বয়স যখন চার তখন তার জীবনে বক্ষবিধীর্ণের ঘটনা ঘটে। আপনারা যারা সিরাত পড়েছেন, সিরাত গ্রন্থ পাঠ করেছেন, আপনারা জানেন, নবী সাল্লাল্লাহু সাললামের জীবনের চার, মতান্তরে দুইবার তার বক্ষবিদীর্ণের ঘটনা ঘটেছে। বক্ষবিদীর্ণ হলো ওপেন হার্ট সার্জারি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জিব্রীল আলাই সালাতু সালামকে পাঠিয়েছেন এবং জিব্রীল আলাই সালামকে পাঠানোর পর শৈশবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামকে একবার মা হালিমার কাছে যখন ছিলেন তখন বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করছেন। জিব্রীল আসলেন তাকে ধরে শুইয়ে দিলেন এবং তার বক্ষ বিদীর্ণ করে ভেতর থেকে তার বিভিন্ন অর্গান বের করে সেগুলোকে জান্নাত থেকে আনা পানি, জিবরীলের সাথে আনা পাত্র সেটাতে পরিষ্কার করে রেখে আবার সেটাকে তিনি জোড়া লাগিয়ে দিলেন এবং তিনি উঠে গেলেন। অলৌকিক একটা ঘটনা তার শৈশবে বারে বারে চারবার কোন কোন ইতিহাসবিদ্দের মতে দুইবার সেটি ঘটেছে। এরপর বয়স যখন সাত এই বক্ষবিদীর্নের ঘটনা মূলত আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘটিয়েছেন। তাকে যেহেতু নবী করা হবে তাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অলৌকিকভাবে তার মধ্যে কিছু জিনিস ঘটিয়ে তাকে তার পরিবারকে মক্কাবাসীকে বার্তা দিচ্ছিলেন যে এই শিশু অন্য ১০টি শিশুর মত নয় এ আল্লাহর নবী হবেন আল্লাহর রাসূল হিসেবে মনোনীত অতএব সেই জায়গা থেকে আল্লাহ তালা বার্তা দিতে চেয়েছেন তার বাইরেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহ সাল্লাম এর ভেতরকার যে তার মানুষ হিসেবে আল্লাহ তালা তাকে যে সৃষ্টি করেছেন সেটাকে অতিমান মানবীয় পর্যায়ে নেওয়ার জন্য এটা এক ধরনের অপারেশন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা কুদরতি ব্যবস্থাপনা ছিল। বয়স যখন সাত মাহারা হয়ে এখন একমাত্র অভিভাবক একমাত্র দেখাশোনা করার মানুষ আব্দুল মুত্তালেব আব্দুল মুত্তালেবের সাথে তিনি বসবাস করতেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আট বছর বয়স যখন তখন দাদা আব্দুল মুত্তালেবের মৃত্যু হয়। বয়স যখন১২ আট থেকে ১২ এই পুরো সময়টা চাচা আবু তালেবের অধীনে তিনি বড় হন এবং আবু তালেব তার অভিভাবকত্ব করেন। চাচা আবু তালেবের সাথে ১২ বছর বয়সে সিরিয়ায় ব্যবসায়িক সফরে সফর সঙ্গী হিসেবে চাচার সাথে যান। সেখানে পথে বোহাইরা নামক যে পাদ্রী ধর্মযাজক তিনি তাকে দেখে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে এই শিশু ভবিষ্যতে নবী এবং রাসূল হিসেবে আবির্ভাব ঘটবে এবং তার ভিতরে সেরকম কিছু আলামত তিনি দেখতে পেয়েছেন যেগুলো তার ধর্মগ্রন্থে ইঞ্জিলে তিনি পাঠ করেছেন তিনি খ্রিস্টান ধর্মের যাজক ছিলেন যে আমাদের ধর্মগ্রন্থ বলছে একজন নবী আসবেন তার এই আলামত থাকবে শিশু মধ্যে তা বিদ্যমান এবং বেশ কিছু অলৌকিকত্ব দেখে ফেলেছেন দেখে বলেছেন যে এই শিশুকে সাবধানতার সাথে রাখতে হবে। সে নবী এবং রাসূল হিসেবে আগমন করবে। আবির্ভাব হবে। বুহারা নামক এই পাদ্রীর ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে ১২ বছর বয়সে নবী সালা সলাম সিরিয়া থেকে মক্কায় ফিরে আসেন। এরপর তার বয়স যখন ১৪ ১৫ অথবা ২০ তখন হরবুল ফুজার নামে ঐতিহাসিক একটা বড় যুদ্ধ হয়েছিল মক্কার অদূরেই। সে হরবুল ফুজারে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন তার চাচাদের সাথে। যদিও তিনি যুদ্ধ করেন নাই। যোদ্ধা ছিলেন না। যুদ্ধের বয়সও হয় নাই। শুধু চাঁদের সাথে গিয়েছিলেন এবং ফিরে এসেছিলেন। এটা তার জীবনের একটা অংশ। বয়স যখন ২০ আনুমানিক তখন তিনি মক্কাবাসীর ঐতিহাসিক হিলফুল ফুজুল নামক যে সংগঠন তৈরি করা হয়েছিল সেটার অংশ তিনি হয়েছেন এবং ঐতিহাসিক হিলফুল ফুজুলের চুক্তিতে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তার সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছেন। হিলফুল ফুজুল সম্পর্কে আমরা নিশ্চয়ই জানি যে মক্কায় বাহির থেকে আসা হজ এবং ওমরার উদ্দেশ্যে আসা আল্লাহর ঘরের মেহমান যারা আসছে আসতো তাদেরকে মক্কায় কোন দুষ্ট লোক যেন কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে কেউ যেন তাদেরকে ধোঁকা দিতে না পারে সেজন্য সে সমস্ত মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্য অধিকার সংরক্ষণের জন্য হিলফুল ফুজুল নামে এই ঐতিহাসিক একটা সামাজিক চুক্তি হয় একটি সংগঠন হয় সেই হিলফুল ফুজুলের ঐতিহাসিক সামাজিক চুক্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম সংযুক্ত হন এবং তার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি মক্কাবাসীর একটি মহৎ এবং ভালো কাজে শামিল হন। অথচ তার বয়স ছিল মাত্র তখন ২০। যে বয়সে তিনি আসলে এ ধরনের গুরুগম্ভীর কাজে সংযুক্ত হওয়া তখনকার সমাজ বাস্তবতা অন্তত চিন্তাও করা যেত না। এরপর তার বয়স যখন ২৫ হয় তখন তার জীবনে প্রথম বিবাহ বন্ধনে তিনি আবদ্ধ হন। মা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার সাথে। মা খাদিজা রাতে তার সংসার চলছিল এবং বয়স যখন ৩৫ হয় তখন তার বংশের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে যখন কাবাঘর নির্মাণ করার পর কাবা ঘরের যে কালো পাথর হাজরা আসদ পাথর সেটা স্থাপন করা নিয়ে মক্কাবাসী কোরাইশের লোকেরা তারা যখন বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল তখন তিনি সবাইকে অদ্ভুত এবং অকল্পনীয় একটা আইডিয়া দিয়েছেন যাতে পুরো সমাজের পুরো পুরো বিবাদ বিতন্ডা থেমে গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন তোমরা কে কাবা ঘরের এই পাথর স্থাপন করবে এই গৌরব কে অর্জন করবে কে ইতিহাসের অংশ হবে এটা নিয়ে তোমরা গন্ডগোল ফাসাদে লিপ্ত হচ্ছ। আমি তোমাদেরকে একটা আইডিয়া দিচ্ছি। তাতে তোমাদের গন্ডগোল থাকবে না। আর সেটি হলো একটা বড় চাদরের মাঝে পাথরটা রাখো। এরপরে চাদরটা সবাই মিলে তোমরা ধরো। ধরে চাদরটা ধরে সবাই মিলে উত্তোলন করো। তাতে করে সব গোত্রের প্রধানরা তোমরা শরিক হলে এখানে এককভাবে কারো ক্রেডিট থাকলো না। এরপর নবী সালা সেটাকে স্থাপন করে দিলেন যে স্থাপন তোমরাই করেছ আমি তোমাদের সহযোগিতা করেছি। এর মাধ্যমে তিনি সামাজিক বিবাদ বিতন্ডা এটা দূর করবার জন্য ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বয়স যখন ৩৯ ততদিনে তিনি মক্কার মানুষদের কাছ থেকে আল আমিন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তার সততা, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা এগুলোর কারণে ব্যাপকভাবে জনশ্রুতি হয়েছে এবং সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। তিনি আলামিন হিসেবে। (নবুয়তের পর) বয়স যখন ৪০ তখন তিনি নবুয়তের দায়িত্ব অফিশিয়ালি আল্লাহ তাালার পক্ষ থেকে পাঠানো জিবরীলের কাছ থেকে বুঝে পান এবং এরপর সূরা আলাকের পাঁচটি আয়াত করা বিসমি রাব্বিকাল্লাজ খালাক এখান থেকে নিয়ে পাঁচটি আয়াত সর্বপ্রথম কোরআনের নাযিল হয় এবং তার জীবনের নতুন যাত্রা শুরু হয় নবুয়তের দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর এখন তাবলীগুর রিসালা বা নবুয়তের দাওয়াত দেওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা তার উপরে আবশ্যক হয়। এরপর এবং এই ঘটনা নবুত নবুয়ত প্রাপ্তির ঘটনা ১৭ই রমাদান অথবা ৮ রবিউল আউয়াল দুটি মত পাওয়া যায় আরো মত রয়েছে মতান্তরে এই দুই তারিখের কোন একটা তারিখে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তিনি এ দায়িত্ব বুঝে পান বয়স যখন তার ৪২ থেকে ৪৩ এই পুরো সময়টা ৪১ ৪২ ৪৩ এ পুরো সময়টা তিনি গোপনে ইসলামের দাওয়াত দেন কারণ আল্লাহ তালা তাকে নির্দেশ করেছেন যে প্রকাশে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া যাবে না গোপনে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। কেন? কারণ হঠাৎ করে মক্কার মানুষজন এই দাওয়াত তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করা তাদের জন্য কঠিন হবে। সেজন্য তাদেরকে গোপন ইসলামের দাওয়াত নবীকে দেওয়া নির্দেশ করা হলো। তিনি গোপন ইসলামের দাওয়াত দিলেন। সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করলেন মেয়েদের মধ্যে তার স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা। এবং সবার মধ্যে তিনি প্রথম অর্থাৎ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলাম গ্রহণ কোন পুরুষ করেননি। সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন একজন নারী। ইসলামের জন্য সর্বপ্রথম জীবন দিয়েছেন যিনি তিনিও একজন নারী। আল্লাহ তালা এভাবে নারীকে বিভিন্নভাবে সম্মানিত করেছেন ইসলামের মাধ্যমে। এরপর যুবকদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছেন সবার আগে আলী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু। আর বয়স্কদের মধ্যে সিনিয়রদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছেন সবার আগে আবু বক্কর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। এরপর তিন বছর যখন গোপনে ইসলামের দাওয়াত চলছিল। খুব সীমিত সংখ্যক হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার তিন বছর পর অর্থাৎ বয়স যখন তার ৪৪ তখন থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার নির্দেশ আসলো। তখন তিনি প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন। তার প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার প্রথম দিনে প্রথম প্রহরেই তিনি শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার হন। আল্লাহ তালা কোরআনে কারীমে যখন আয়াত নাযিল করেছেন আপনি আপনার নিকট আত্মীয় বংশের লোকদের সবাইকে সতর্ক করুন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু সলাম সাফা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সবাইকে আহ্বান করেন। সবাইকে ডাকেন এবং বলেন যে আমি পাহাড়ের উপরে আছি। তোমরা নিচে আছো সবাইকে আগে ডেকে সমবেত করেন যে সবাই একটু একসাথে হও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইনফরমেশন তোমাদের জন্য আছে। সবাই দৌড়ে আসলো তার ডাক শুনে, কারণ ইতিপূর্বে তিনি কখনো এভাবে ডাকেননি। সবাই গোত্র প্রধানরা নেতৃবৃন্দরা সবাই আসছে সমাজে। তিনি সবাইকে বললেন আমি যে পাহাড়ের চুড়ায় আছি এখান থেকে আমি অনেক দূরে দেখতে পাচ্ছি তোমরা নিচে আছো তোমরা দেখতে পাচ্ছ না এখন আমি যদি তোমাদেরকে বলি যে দূরে আমি যে দেখতে পাচ্ছি সেখানে শত্রু বাহিনী সশস্ত্র হয়ে তারা আসছে তোমাদের মক্কা আক্রমণ করবার জন্য তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? সবাই সমস্যা বলল হ্যা জীবনে তুমি মিথ্যা বলনি আমাদের কাছে কখনো। তোমাকে আল আমিন আমরাই উপাধি দিয়েছিলাম। এ পদক আমরাই দিয়েছিলাম সবাই মিলে। অতএব তুমি যদি বল ডেফিনেটলি তুমি দেখেই বলবে তুমি তো মিথ্যা বলো না। স আমরা বিশ্বাস করব ডেফিনেটলি। তখন তিনি বললেন তারপরে পদক্ষেপ কি হবে তোমাদের? সবাই বললেন এরপরে পদক্ষেপ হবে আমরা এই শত্রুদের মোকাবেলার জন্য সবাই ঝাপিয়ে পড়বো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তখন তাদেরকে বললেন আমি উপমাটা দিয়েছি একটা কথা বোঝাবার জন্য। সেটা হলো আল্লাহ তাআলা আমাকে জান্নাত জাহান্নাম পর্যন্ত দেখবার সুযোগ করে দিয়েছেন। ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উপস্থাপন করে দিয়েছেন। জান্নাত জাহান্নাম আখেরাতের সব স্তরগুলো আমি দেখতে পাচ্ছি। আমি যেটা প্রত্যক্ষ করছি, আমি যেটা জানছি ওহীর মাধ্যমে সে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি। তোমরা সে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো। এই যে তার অভিনব বুদ্ধিদীপ্ত হেকমাপূর্ণ দাওয়া এটা তার প্রকাশ্যে দাওয়াতের সূচনা। এর সাথে সাথে আবু লাহাব তাকে লক্ষ্য করে বলললাক তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক। তুমি কি এই কথা বলার জন্য আমাদেরকে একসাথ করছো? আমরা তো মনে করছি কোন ডাকাত পড়েছে বিপদ হয়েছে এবং আবু লাহাব যে তাব্বানলাকা সাল ইয়াম বলেছেন আরবিতে কেউ কাউকে তাব্বন বলা এটা খুব জঘন্য কথা হিসেবে ধরা হয় খুব বড় ধরনের আপনার শব্দ বোমা হিসেবে ধরা হয় তাব্বানলাক তুমি ধ্বংস হও এরকম বদদোয়া তো নবীজিকে যখন সে বলেছে তাব্বানলাকম তোমার সারাদিন ধ্বংস হোক এটা নবীজির জন্য অপমান কর ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার জবাবে সূরা তাব্বাতিয়াদা নাযিল করে সেখানে এখানে আল্লাহ তালা বলেছেন তাব্বাত আবিলাহাবিতা যে আবু লাহাব দুই হাত তুলে আমার নবীকে তাব্বানলাক বলছে মোহাম্মদ তোমার সারাদিন ধ্বংস হোক এ কথা বলছে ওর দুই হাত ধ্বংস হবে সে নিজে ধ্বংস হবে এবং তার স্ত্রী যে তার এই অপকর্মের সহ সহযাত্রী এবং সহযোগী সেও ধ্বংস হবে সূরা তাব্বাতিয়াদার মাধ্যমে কেয়ামত পর্যন্ত মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলমানরা কোটি কোটি মুসলমানরা আবু লাহাবের নবীকে ওই কষ্ট দেওয়ার একটি বাক্য জবাব দিয়ে যাবে এটা নবী মর্যাদা আল্লাহর কাছে যে কোরআনের অংশ আল্লাহতালা আল্লাহকে গালি দেওয়ার বহু ঘটনা আছে যে বহু মানুষ আল্লাহকে গালি দিয়েছে কিন্তু তাদের তাদের প্রতিকারে বা তাদের শাস্তি স্বরূপ এরকম কোন ব্যবস্থা আপনি কোরআনে পাবেন না কিন্তু নবী সাল্লাকে গালি দিয়েছে এটা আল্লাহতালা সহ্য করেন নাই খোদা আল্লাহকে গালি দিয়েছেন আল্লাহ সেগুলো কেয়ামতে হয়তো শাস্তি দিবেন দুনিয়াতে অনেককে হয়তো আল্লাহ ছাড় দিয়েছেন কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেউ গালি দিয়েছে চূড়ান্ত পরিণতি তাকে বরণ করেই তারপর দুনিয়া যেতে হয়েছে। যাই হোক তো নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাললাম ৪৪ বছর বয়সে যখন প্রকাশ ইসলামের দাওয়াত শুরু করেছেন তার পরপরই ৪৫ বছর বয়স যখন তার নবুয়তের পঞ্চম বছর যেটি সে বছর জাফর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং তখন মক্কার প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের পর থেকে বিশেষ করে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেল এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে দুর্বল বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা সাহাবীদের প্রতি নির্মম নির্যাতন শুরু হয়ে গেল। যখন নির্যাতন শুরু হয়েছে দুর্বল মুসলমানরা তারা আসলে মক্কায় টিকাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তখন আল্লাহর নির্দেশে প্রথম হিজরত বা দেশ ত্যাগের নির্দেশ আসে যেটাকে হিজরতে হাবসা বলা হয়। এখন বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে টিগ্রে নামক একটা অঞ্চল আছে বিভাগ আছে তাদের। সে টিগ্রে এলাকায় হাবসি ভিলেজ এখনো আছে এবং সেখানকার যেই ব্যক্তি তাদেরকে ওয়েলকাম করেছেন সেখানকার যে শাসক ছিলেন নাজাসী যাকে বলা হয় সে নাজাসী বাদশা তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন নবীজিকে না দেখেই তার বর্ণনা শুনেই এবং নবী সালা সলাম তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে দূরদেশে আরব থেকে তিনি তার জানাজার সালাত গায়েবানা জানাজার সালাত আদায় করেছিলেন। এই পুরো ঘটনা অর্থাৎ হিজরতে হাবসার ঘটনা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের পঞ্চম বছর বা তার বয়স যখন ৪৫ সে বছর ঘটে এবং সে বছর দুইবার হিজরতের ঘটনা ঘটে প্রথমবার হিজরতে কয়েকজন নারী পুরুষ ১১ জন পুরুষ এবং পাঁচজন নারী ছিলেন আর দ্বিতীয় দফা হিজরতে ৮৬ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী ছিলেন এবং এদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম দফাতেই জাফর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এবং একই বছর নির্যাতনের স্টিম রোলারে সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা একজন নারী। তিনি শাহাদত বরণ করেন এবং তাকে নির্মমভাবে অত্যন্ত নিঃশংসভাবে লজ্জাস্থানে বর্ষার আঘাত দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তাকে খুন করা হয়। তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ যিনি জীবন দিয়েছেন তিনি সুমাইয়া রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা। এরপর তার বয়স যখন ৪৬ এবং নবুয়তের ষষ্ঠ বছর সেই বছর হামজা এবং ওমর রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুমা দুজন ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সর্বপ্রথম ওমর রাদি ইসলাম গ্রহণ করার পরে তিনি বললেন আমরা যখন সত্য দ্বীনের অনুসারী তাহলে আমরা গোপনে কেন নামাজ পড়বো আমরা হারামে প্রকাশ্যে নামাজ পড়বো তখন মসজিদুল হারামে প্রকাশ্যে তার নেতৃত্বে নামাজ পড়া শুরু হয়। বয়স যখন তার ৪৭ এবং নবুয়তের সপ্তম বছর তখন তার উপর এবং মুসলমানদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের সবচেয়ে বড় স্টিম রোলার। যেটাকে অবরোধের সময় বলা হয় সে আবু তালেব একটা জায়গায় নবী সাল্লাম তার প্রতি তার অনুসারী এবং তাকে যারা সহযোগিতা করেছে কোরাইশ বংশের তাদেরকে এক ঘরে করে রাখার জন্য মক্কার মুশরিকরা সিদ্ধান্ত নিল। এবং তিন বছর টানা তাদের সাথে সকল প্রকার কথাবার্তা যোগাযোগ লেনদেন কেনাবাচা সব বন্ধ করে দিল। যেটা সেই যুগের সেই পৃথিবীতে সেই অবরোধের মধ্যে কোন মানুষে বেঁচে থাকাও সম্ভব না। যদি সমাজের মানুষ অবরোধ করে সেরকম একটা পরিস্থিতিতে অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতি হয়েছিল এবং মানুষ না খেয়ে সাহাবীরা কঙ্কালসার হয়ে যাচ্ছিল। মৃত্যুর মুখোমুখী হয়ে যাচ্ছিল এবং খুব ভয়াবহ সময় পার করেছিল তিন তিনটি বছর। এবং একটা পর্যায়ে তার বয়স যখন ৪৮ এবং নবুয়তের অষ্টম বছর তখন আল্লাহ তালা তার মাধ্যমে একটা অলৌকিক মজেজা ঘটান যেটাকে শাকুল কামার বা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার ঘটনা বলে মক্কার মানুষজন শত শত হাজারো মানুষ যারা দেখেছে যে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম হাতের আঙ্গুল ইশারা যখন করেছেন আল্লাহ আল নির্দেশে চাঁদ দুপাশে আলাদা হয়েছে আবার সেটা সম্মিলিত হয়েছে কোরআনে যেটাকে আল্লাহ তালা বলেছেন কামার চরণ চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে অতএব কিয়ামত নিকটবর্তী তো সেই ঘটনাটি ঘটেছে নবী নবুতের এই পর্যায়ে আর মানিক এবং তার বয়স যখন ৫০ নবুয়তের দশম বছর তখন বয়কট শেষ হয় যে বয়কট তিন বছর ধরে চলেছিল এবং একই বছর তার জীবনের সবচেয়ে বড় সহযোগী ভরসাস্থল একজন বাহিরে থাকা আবু তালেব চাচা আর ভেতরে থাকা খাদিজা রাদি আনহা দুজনই একই বছর মারা যান। তার জীবনের এই বছরটাকে বলা হয় আমল হুজন বা বিপদের বছর। কারণ সবচাইতে আপন দুজন মানুষ একসাথে চলে যান। এবং এই যে আল্লাহ তালা তার নবীকে পরীক্ষা করেছেন এটা আল্লাহ তাআলার আল্লাহ তাআলার হেকমাপূর্ণ সিদ্ধান্ত যে তার নবীকে তিনি স্ট্রং করবেন মজবুত করবেন বড় কোন কাজের জন্য। একের পর এক বাধা পরীক্ষা চ্যালেঞ্জ তাকে পার করে সামনে যেতে হয়েছে। এরপর একই বছরে তিনি সাওদা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা এবং আয়েশা তার আগ্দ সম্পন্ন হয়। আশা সংসার জীবন শুরু করেন আরো অনেক পরে কিন্তু শুধু আগটা সম্পন্ন হয়। তখন সাদা তখন আগ এবং সংসার একসাথে শুরু হয়। এবং এই বছরই তিনি তায়েফে দাওয়াত নিয়ে যান এবং তার সাথে থাকা জায়েদ ইবনে হারেস রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর সাথে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। রক্তে রঞ্জিত হয়ে মক্কায় ফিরে আসেন। বয়স যখন তার ৫২ এবং নবুয়তের ১২ তম বছর সে বছর তার জীবনে ইসরা এবং মেরাজের ঘটনা ঘটে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান আল্লাহ তালা তাকে দেন। এবং একই বছর একই বছর মদিনা থেকে আসা ১২ জন হাজী যারা হজে আসছেন তারা মিনার কোন একটা পাহাড়ের পাদদেশে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সাথে মিলিত হন এবং বায়াতে আকাবায়ে উলা বলা হয় ইতিহাসে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের হাতে হাত রেখে তারা বায়াত নেন ইসলাম গ্রহণ করে এবং নবীজিকে মক্কায় যাওয়ার হিজরতের আমন্ত্রণ তারা জানান অর্থাৎ শুরু থেকেই মদিনাতে হিজরত করার একটা প্রেক্ষাপট শুরু হয় এরপর তার বয়স যখন ৫৩ অনুভবের ১৩তম বছর তখন আল্লাহর পক্ষ পক্ষ থেকে হিজরতের অনুমোদন আসে বায়াতে আকবায়ে সানিয়া আসে বা মদিনা থেকে এ বছর হজ থেকে আসা হজের জন্য আসা ৭২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তারা বলেন আপনি মদিনায় আসেন মক্কাবাসীর জুলুমে আপনার থাকার কোন মানের মানে নাই আপনার সাথে যত লোক আসবে সবাইকে ওয়েলকাম করার জন্য মদিনাবাসী আমরা প্রস্তুত আপনি চলে আসেন তখন তিনি পরামর্শ করলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমোদন আসলো হিজরতের তিনি হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন এদিকে নবী সাল্লামকে হত্যার বহু ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে এখনো চলছে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর মধ্য দিয়েই বয়স যখন তার ৫৪ এবং নবুয়তের যখন ১৪ তম বছর শুরু তখন তিনি হিজরতের উদ্দেশ্যে রাতের গভীরে আবু বকর সাথে নিয়ে বের হন এবং মক্কা থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে গারে সওরে তিনদিন অবস্থান গ্রহণ করেন অত্যন্ত সুকৌশলী একটা সিদ্ধান্ত যখন মক্কা থেকে গারে সওরে তিনি আশ্রয় নেন তিনি সোজা টানা মক্কা থেকে মদিনার পথে চলে যেতে পারতেন না গিয়ে তিনি মক্কা থেকে অদরে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গিয়ে একটা গুহায় তিনদিন অবস্থান করেন উদ্দেশ্য যে মক্কার মুশরিকরা তাকে খুঁজে পাবে না। তখনকার যে রাস্তা এই রাস্তা ধাওয়া করে একজন মানুষকে ধরে ফেলা তো খুব সহজ কাজ। তো তিনি যদি রাস্তা কন্টিনিউ করতেন তাহলে তাকে তারা ধরে ফেলতো। আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর ইশারায় তিনি গুহায় আশ্রয় নিলেন তিনদিন। তিনদিন ধরে যখন তাকে কোথাও খুঁজে পায়নি মক্কার মুশরিকরা। তখন তারা আশা ছেড়ে দিয়েছে তাহলে আমাদের হাতের নাগালে বাইরে চলে গেছে। অথচ তিনি খুব কাছেই ছিলেন তখন। গারেস সহরে তিনদিন অবস্থান করার পর তিনি যখন একটা পর্যায়ে এক থেকে ১২ই রবিউল আউয়াল পর্যন্ত টানা বিভিন্নভাবে সফর করার পর মদিনায় গিয়ে পৌঁছালেন, তখন মদিনাবাসী কুবা নামক জায়গায় যেখানে আমরা হজে গেলে দেখে থাকি, কুবাতে একটা মসজিদ আছে, এইখানে মদিনার এন্ট্রেন্স পয়েন্ট ছিল। তখন প্রবেশদ্বার ছিল মদিনার তখনকার যে রুট ছিল সে রুটে এই জায়গায় শত শত মানুষ যুবক বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সের শিশু সবাই একত্র ওয়েলকাম করেন এবং তলাআল বাদরু আলাইনা, এই যে ঐতিহাসিক যে তাদের কবিতার মাধ্যমে ওয়েলকাম করানো সেটা তারা করেছে। (হিজরতের পর) এরপর তিনি মসজিদে ঢুক মদিনায় ঢোকার পর তার বয়স যখন ৫৪ নবুয়তের ১৪ তম বছর এবং হিজরতের প্রথম বছর এ বছরে তিনি মদিনায় ঢুকে প্রথম মসজিদে কুবা নির্মাণ করলেন এরপরে পাশে আরেকটা মসজিদ তৈরি করলেন মসজিদে জুমা এবং একই বছর মসজিদে নববী তৈরি করলে লেন এবং ঐতিহাসিক মদিনা সনদ ইয়াহুদীদের সাথে এই বছরই তিনি সম্পাদন করেন। আযান একামতের বিধিবিধান এ বছরই শুরু হয় এবং এ বছর সালমান ফারস রাদিয়াল্লাহু তালা ইসলাম গ্রহণ করেন। অনেকগুলো ঘটনাবহুল বছর ছিল এটি। তার বয়স যখন ৫৫ এবং হিজরতের দ্বিতীয় বছর। এই বছরে কেবলা পরিবর্তনের বিধান আসলো। তিনি যখন মক্কা থেকে মদিনায় আসছেন তখন তিনি মক্কা থেকে সরি মদিনা থেকে তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে নামাজ পড়তেন। তারপর আল্লাহ নির্দেশ করলেন যে আপনি কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়ুন। আপনারা মদিনায় যারা যান দুই কেবলার মসজিদ সম্পর্কে জানেন। সেখানে আল্লাহর বিধান আসার সাথে সাথে সাহাবীরা নামাজের মধ্যেই কেবলা পরিবর্তন করে। এজন্য এটাকে দুই কেবলার মসজিদ বলা হয়। একই নামাজে দুইটা কেবলা তারা মেইনটেইন করেছেন। প্রথমে কিছু নামাজ পড়েছেন বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে। এরপর যখন নামাজের রত অবস্থায় কেউ একজন এসে সংবাদ দিল যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর প্রতি আল্লাহ তালা বিধান নতুন বিধান জারি করেছেন মক্কার দিকে কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়তে হবে তখন তারা নামাজের মধ্যেই ফিরে যান চেঞ্জ হয়ে যান এজন্য এটাকে দুই কাবলার মসজিদ বলা হয় আমরা যারা মদিনায় যাই তারা অনেকে সেটা দেখার জন্য যাই এই ঘটনা ঘটে শাবান মাসে নবী সাল্লামের হিজরতের দ্বিতীয় বছর এবং তার বয়স যখন ৫৫ নবুয়তের বয়স যখন ১৫ এরপর একই বছর ১৭ রমাদান ইসলামের ইতিহাসের প্রথম বড় সম্মুখ সমর বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে এবং প্রথম বড় বিশাল বিজয় অলৌকিকভাবে ৩১৩ জন মানুষ অনেকটা অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াই পুরো বিশাল বড় শক্তি পরাশক্তির বিরুদ্ধে আল্লাহ তালা তাদেরকে অলৌকিক বিজয় দিয়েছে। এটা হল মুসলমানদের অগ্রযার জন্য অনেক বড় একটা প্রেরণা ছিল আল্লাহর তরফ থেকে। এ বছরই অর্থাৎ দ্বিতীয় হিজরীতেই রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। এবং এই বছরই সর্বপ্রথম ঈদুল ফিতর আদায় করেছেন, ঈদুল আযহা আদায় করেছেন মুসলমানরা। এবং এই বছরই অনেকগুলো বিধি-বিধান নাযিল হয়েছে। যেমন কোরবানির বিধান নাযিল হয়েছে। তারপরে ফিতরার বিধান নাযিল হয়েছে, যাকাতের বিধান নাযিল হয়েছে। এবং এ বছরই ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার সাথে আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বিবাহ সম্পাদন হয়। নবুয়তের বয়স যখন ৫৬ নবী সাল্লামের বয়স যখন ৫৬ নবুয়তের বয়স যখন ১৬ এবং হিজরতের তৃতীয় বর্ষ যখন সে বছর নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লামের সামনে আসে ওহুদের যুদ্ধ। সাতই শাওয়াল ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেখানে ৭০ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেন। হামজালা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু হামজা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ সাহাবীদেরকে নবী সাল্লাম হারান এবং স্বয়ং নবী সাল্লামের দাত ভেঙ্গে তিনি রক্তাক্ত হন এবং তার তার কয়েক জায়গায় ইনজুরি হয় তিনি মারা গেছেন মর্মে কাফেররা প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছিল আল্লাহ তালা তাকে হেফাজত করেছেন এবং নবী সাল্লাম একটা কথা থেকে সামান্য একটু সরে যাওয়ার কারণে কঠিন পরিণতির মুখোমুখী তখন সাহাবীদেরকে হতে হয়েছে যেটা আমাদের জন্য বিরাট শিক্ষা যে তার কথার বাইরে গেলে আমাদের জন্য অকল্যাণ নিশ্চিত আছে একই বছর অনেকগুলো বিধিবিধান নাযিল হয়েছে এর ভিতরে মেয়েদেরকে পর্দার বিধান এই বছর নাযিল হয়েছে তার আগ পর্যন্ত মেয়েরা ছেলেদের সাথে পর্দা করার বিধান ছিল না এ বছর সর্বপ্রথম পর্দার বিধান নাযিল হয় এবং এই বছরই সুদ এবং মদ এই দুটিকে হারাম ঘোষণা করা হয় মদের বিধান যখন হারাম ঘোষণা করা হয় চিন্তা করার বিষয় যে যে সাহাবীরা বা যে মক্কার মদিনার মানুষেরা মদ হালাল ছিল নিষিদ্ধ ছিল না সবাই পান করতো দিলেন হারাম করলেন মদের যে ভাড়গুলো ছিল এগুলো সব রাস্তায় ছুড়ে ছুড়ে সাহাবীরা ফেলছিলেন এবং মদের স্রোত রীতিমত বহমান হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সাহাবায়ে কেরামের আনুগত্যের একটা দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। এটা ছিল তৃতীয় হিজরীর ঘটনা। এরপরে চতুর্থ হিজরীতে তার বয়স যখন ৫৭ নবুয়তের বয়স যখন ১৭ সেই বছর বড় যে ঘটনা ঘটে সেটা হলো ইয়াহুদিরা যাদের সাথে মদিনা সনদে চুক্তি হয়েছে যে রাষ্ট্রকে আমরা সবাই মিলে সেভ করব। আমরা উভয় মিলেমিশে বসবাস করব এই ভূমিতে তুমি তোমার ধর্ম পালন করবে আমিও ধর্ম পালন করব। তখন তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং বনু নাজিরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তাদেরকে মদিনা থেকে বের করে দেওয়া হয় বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে চুক্তিভঙ্গের কারণে এবং একই বছরে গজতুজাতুর রাকা যেটি সেটাই সংঘটিত হয় এবং একই বছরে আরো অনেকগুলো ঘটনা ঘটে এরপরে বয়স যখন তার ৫৮ এবং নবুয়তের বয়স যখন ১৮ এবং হিজরতের বয়স যখন পাঁচ পঞ্চম হিজরীতে খন্দকের যুদ্ধ গঠিত হয় খন্দকের যুদ্ধে ১০০০ সাহাবী প্রায় অংশগ্রহণ করেন এবং তারা সাকলে প্রায় সাড়েচার কিলোমিটার এলাকা মদিনার চারপাশে তারা পরীক্ষা খনন করেন এবং সেই পরীক্ষা পাচ মিটার গভীর ছিল এই পুরো পরীক্ষা তারা অনেকটা ক্ষুধার্থ অবস্থাতে খনন করে মক্কা থেকে আসা শত্রুপক্ষ যারা মদিনাকে শেষ করতে চেয়েছে মুসলমানদের শেষ করতে চেয়েছে তাদেরকে তারা প্রতিহত করেন এবং পুরো আইডিয়াটা দিয়েছিলেন পারস্য থেকে আসা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু এরপর এই বছর নবী করীম সাল্লামের জীবনে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে যেমন বন মুস্তালেকের ঘটনা ঘটে যেখানে মায়েশালাহার চরিত্র নিয়ে মুনাফিকরা কালিমা তোলে দুই একজন সরল মনা মুসলমান সেখানে যোগ দিয়ে ফেলে আল্লাহ তালা পরে আয়াত নাযিল করে তার চরিত্রের পুত্রপবিত্রতার কথা আমাদেরকে জানান দেন ঐতিহাসিকভাবে যেটাকে ইফকের ঘটনা বলা হয় এই বছরই তামমের বিধান নাযিল হয় এবং এই বছরই ইয়াহুদিদের আরেকটা গোত্র বন কোরাইজা তাদের গাদ্দারীর কারণে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের কারণে ওই যে চুক্তি ছিল চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হয় করুণ শাস্তি। এর পরের বছর হিজরীর ষষ্ঠ বছরে নবী সাল্লামের বয়স যখন ৫৯ এবং তার নবুয়তের বয়স যখন ১৯ সেই বছরের যে ঘটনাগুলো সেগুলোর মধ্যে থেকে ছিল ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার চুক্তি। নবী স্বপ্নে দেখেছেন তিনি ওমরা করছেন ১৪০০ সাহাবীকে সাথে নিয়ে রওনা দিলেন অনেকটা অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া ওমরার উদ্দেশ্যে এহরাম পড়ে। কিন্তু হুদাইবিয়া নামক জায়গায় যাওয়ার পরে মক্কার মুশরিকরা বাধা দিল যে আমরা ঢুকতে দিব না। তারা জানালেন আমরা তো যুদ্ধ করতে আসিনি। আমরা ওমরা করে আবার ব্যাক করব। তারা বলল না আমরা ঢুকতে দিব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাড়াবাড়ি না করে তাদের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি করলেন যেটার নাম হুদায়বিয়া চুক্তি। যে চুক্তি বাহ্যিকভাবে মনে হয় সব মুসলমানদের বিরুদ্ধে কিন্তু এই চুক্তি মুসলমানদেরকে মূলত অগ্রগতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক হতেবিয়া চুক্তি ১০ বছরের জন্য সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি হয়েছিল পহেলা জিলকয়দা ছয় হিজরীতে এবং এই বছরের পর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বিভিন্ন রাজা বাদশাদের কাছে যেমন হেরাকলিয়াস খস্রু তারপরে মুকাকিস বড় বড় যে সমস্ত শাসকরা পৃথিবীর তাদের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত তাদেরকে দিয়েছেন তাদেরকেও গ্রহণ করেছে আর কেউ হটকারিতা করেছে যারা হটকারিতা করেছে তাদেরকে নির্মাম পরিণতির মুখে আল্লাহ করেছেন। তার বয়স যখন ৬০ নবুয়তের বছর যখন সাত তখন তিনি ঐতিহাসিক খায়েবার বিজয় করেছেন ইয়াহুদিদের বিশাল বড় দুর্গের এলাকা এবং একই বছর আগের বছরের ওমরা হোদাইবিয়া চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী সাহাবীদেরকে নিয়ে কাজা করেছেন উমরাতুল কাজা। এ বছরে সাফিয়া মাইন রাদিয়াল্লাহু তা বিয়ে হয়েছে তার বয়স যখন ৬১। নবুয়তের বয়স যখন ২১ এবং হিজরত যখন অষ্টম হিজরীর, হিজরী সন যখন অষ্টম হিজরীতে তখন তিনি ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের সুযোগ এবং নেয়ামত লাভ করেন রমজান মাসে। অনেকটা রক্তপাতহীন ভাবে সারাজীবন যারা কষ্ট দিয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা করে সাধারণ ক্ষমা করে তিনি মক্কা বিজয় করেন। এবং একই বছর হুনাইনের যুদ্ধে সাহাবীদের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল, কিছুটা আত্মপ্রসাদ চলে এসেছে। কোরআনে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। সাময়িকভাবে আল্লাহ তালা এক ধরনের সাহাবীদেরকে এক ধরনের পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে আবার আল্লাহ তালা নবী সাল্লামের নেতৃত্বে মুহূর্তের মধ্যে তাদেরকে বিজয় দেন এবং বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ তারা আহরণ করেন। এরপরে তায়েফ অবরোধ করেন এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ আহরণ করেন এবং একটা অপশক্তিকে দমন করেন নবী সাল্লাল্লাহু সলাম হিজরীর নবম বর্ষে তার বয়স যখন ৬২ মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে তখন ঐতিহাসিক তাবুক যুদ্ধ। এটা তিনি নেতৃত্ব দেন এবং রোমানদের বিরুদ্ধে মূলত এটি বিশাল বড় বাহিনী হয়েছে। কিন্তু এখানে কোন সংঘাত হয়নি সংঘাতের আগেই সংঘাত ছাড়াই মুসলমানদেরকে আল্লাহ বিজয় দিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মনে ভয় ঢুকে দিয়েছেন তারা ভয়ে সব পালিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে গেছে। মুসলমানরা কোন রক্তপাত ছাড়াই বিজয় লাভ করে ফিরে এসেছেন। এরপরে মুনাফিকদের চরিত্র এ বছর প্রকাশ হয়েছে এবং বিদায় হজের প্রস্তুতি এবং বিদায় হজের বিধিবাধান এই বছর নাযিল হয়। তার বয়স যখন ৬৩ জীবনের শেষ বছর এবং হিজরতের দশম বছর। সে বছর তিনি ঐতিহাসিক বিদায় হজের খুতবা যেটা ঐতিহাসিকভাবে আজও মানব ইতিহাসের কাছে রোল মডেল। সে খুতবায় তিনি মানবাধিকার নারী অধিকার শ্রমিকদের অধিকার বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তিনি ঐতিহাসিক খুতবা দেন যেটা আজও গোটা পৃথিবীতে চর্চা হয়। দেড় হাজার বছর আগের খুতবা যেন আজকের জন্য জাজল্যমান এবং শাশ্বত। এবং এই বছর এবং ওই দিনেই আলইমাকুলা এ আয়াত নাজিল হয় যে, আজকে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো এবং এরপর নবী সাল্লাল্লাহু সলাম এই হজের পরেই যখন মদিনায় আসেন, পথ থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে গেলেন। মদিনা গিয়ে পরিপূর্ণ অসুস্থ হলেন এই অসুস্থতাই আস্তে আস্তে তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে গেল এবং এরপর তিনি আর সুস্থ হলেন না। আস্তে আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে তিনি দুর্বল হতে থাকলে একটা পর্যায়ে যখন জীবনের শেষ মুহূর্ত, তিনি বারবার আয়েশা আল্লাহ তালা হয় কক্ষে ছিলেন এবং বারবার সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছিলেন। যখন তার সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছিলেন। তার তাকে অযু করানো হলো মুখে পানি দেয়া হলো ঠান্ডা পানি দেয়া হলো। তিনি একটু হুশ আসে নামাজ পড়ার জন্য কিন্তু আবার বেহুশ হয়ে যান। আবার হুশ আসে বহুৎ কষ্টে আবার বেহুশ হয়ে যান। এভাবে কয়েক দফা হয়েছে। একটা পর্যায়ে তিনি কোন রকম নামাজ পড়তে পারলেন। তারপরে তার জীবনের শেষ অন্তিম মুহূর্ত যখন, তখন তিনি তার আম্মাজান আয়েশা তার কক্ষে ছিলেন। দেখতে পেলেন যে, আম্মাজান আয়েশার একজন ভাই প্রবেশ করেছে কক্ষে। তার হাতে মেসওয়াক। তিনি ইশারা দিলেন তখন জবান বন্ধ হয়ে গেছে। ইশারা দিলেন যেই মেসওয়াকটা আমাকে দেওয়া যাবে কিনা। মেসওয়াকটা দেয়া হলো তখন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহা মেসওয়াকটা চাবিয়ে দিলেন। নবী সাল্লামের তখন তার দিয়ে চাবানোর শক্তি ছিল না। নবী সাল্লাম তখন মেসওয়াক করলেন। মেসওয়াক করতে করতে তিনি শেষ কয়েকটি বাক্য বলে একেবারে, আর রাফিক আল আলা মহান বন্ধুর সাথে সাক্ষাত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সাক্ষাতের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে দিনকে বুলন্দ করে রবিউল আউয়াল মাসের দুই তারিখে, মতান্তরে ১২ তারিখে, আরো বিভিন্ন মত আছে, সোমবারে, তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় হন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (মৃত্যু) আল্লাহ তালা আমাদেরকে তার জীবন বৃত্তান্ত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমাদেরকে তার জীবন দর্শনকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। তার জীবনে আমাদের জন্য যে অনুপম আদর্শ রয়েছে বারবার কোরআনে আমাদেরকে সাবধান করা হয়েছে। আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ তার অনুসরণ অনুকরণ। এছাড়া কোন পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। অতএব, মুসলমান হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পূর্ণ আদর্শকে তার জীবনকে আমরা অনুসরণ অনুকরণ করার চেষ্টা করব। সেটাই হবে প্রকৃত সার্থকতা আমাদের। আল্লাহ তালা আমাদের সবার প্রতি সেই তৌফিক আল্লাহতা আমাদের সবাইকে দান করুন এবং তিনি যে কষ্ট করেছেন পরিশ্রম করেছেন সারা জীবন যে ত্যাগতিক্ষা করেছেন এই উম্মতের জন্য, আল্লাহ তালা আমাদের সবার তরফ থেকে তাকে সর্বোত্তম বিনিময় দান করুন শান্তির বাড়িতে আল্লাহতালা তার প্রতি বর্ষণ করুন। [১]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]