বিষয়বস্তুতে চলুন

হাঁস

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
‘বাঃ চোখ লাল, মুখ লাল, পা লাল, তুমি কে হে?’
হাঁস বলল, ‘আমি হাঁস।’
বকেরা বলল, ‘তুমি কোত্থেকে আসছ?’
হাঁস বলল, ‘মানস সরোবর থেকে।’
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

হাঁস অ্যানাটিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত জলচর পাখি। এই পরিবারের অন্য দুই সদস্য হলো মরাল আর রাজহাঁস। এরা আকারে বড়। হাঁসদের অনেক প্রজাতি পরিযায়ী, আবার কিছুসংখ্যক এক জায়গায় স্থায়িভাবে বসবাস করে। হাঁসের ঠোঁট চ্যাপ্টা। ঠোঁটের কিনারা চিরুনির মতো খাঁজকাটা। ডানা জোড়া সাধারণত লম্বা ও আগা চোখা যা দীর্ঘক্ষণ ওড়ার পক্ষে সহায়ক। হাঁসের ঘাড় ও পা রাজহাঁস ও মরালের ঘাড় ও পায়ের তুলনায় আকারে ছোটো। স্ত্রী ও পুরুষ হাঁসের মধ্যে বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। এদের ডাকও বেশিরভাগক্ষেত্রে ভিন্ন।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শ‍ুধু পায়,
    শামুক গ‍ুগলিগ‍ুলো প’ড়ে আছে শ্যাওলার মলিন সবুজে,—
    তখন আমারে যদি পাও নাকো লালশাক-ছাওয়া মাঠে খুঁজে,
    ঠেস্ দিয়ে ব’সে আর থাকি নাকো যদি বুনো চাল্‌তার গায়,
    তাহ’লে জানিও তুমি আসিয়াছে অন্ধকারে মৃত্যুর আহ্বান—
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
  • আগে-আগে পাণ্ডা-হাঁস চলেছে, পিছে-পিছে তীরের ফলার মতো দু’সারি হাঁস ডাক দিতে-দিতে উড়ে যাচ্ছে। অনেক উপর দিয়ে একদল ডাক দিয়ে গেল—“পাহাড়তলি কে যাবে? পাহাড়তলি!” বুনো হাঁসের ডাক শুনে পোষা-পালা খালের বিলের হাঁস, তারা ঘাড় তুলে যে যেখানে ছিল জবাব দিলে—“যে যায় যাক, আমরা নয়।”
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮
  • কতগুলো বক হাঁটু-জলে নেমে ভারি গম্ভীরভাবে মাছ ধরবার ফন্দি আঁটাছে, একসময় একটি রাজহাঁস উড়ে এসে সেইখানে নামল। বকগুলো তাকে দেখে আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘বাঃ চোখ লাল, মুখ লাল, পা লাল, তুমি কে হে?’
    হাঁস বলল, ‘আমি হাঁস।’
    বকেরা বলল, ‘তুমি কোত্থেকে আসছ?’
    হাঁস বলল, ‘মানস সরোবর থেকে।’
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (প্রবাসী পাখি), উপেন্দ্রকিশোর রচনাসমগ্র- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সম্পাদনা- শান্তা শ্রীমানি, প্রকাশক- বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৮৮৪
  • খোঁড়া হাঁসের সঙ্গে মানস-সরোবরে যাবার জন্যে রিদয় ঘর ছেড়ে মাঠে এসে দেখলে নীল আকাশ দিয়ে দলে-দলে বক, সারস, বুনোহাঁস, পাতিহাঁস, বালুহাঁস, রাজহাঁস সারি দিয়ে চলেছে। এই সব পাখির দল পুবে সন্‌দ্বীপ থেকে ছেড়ে আমতলির উপর দিয়ে দুভাগ হয়ে, এক ভাগ চলেছে—গঙ্গাসাগরের মোহানা ধরে গঙ্গা-যমুনার ধারে-ধারে হরিদ্বারের পথ দিয়ে হিমালয় পেরিয়ে মানস সরোবরে; আর-একদল চলেছে—মেঘনানদীর মোহানা হয়ে আমতলি, হরিংঘাটা, গঙ্গাসাগর বাঁয়ে ফেলে, আসামের জঙ্গল, গারো-পাহাড় খাসিয়া-পাহাড় ডাইনে রেখে, ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁকে-বাঁকে ঘুরতে-ঘুরতে হিমালয় পেরিয়ে তিব্বতের উপর দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা ধবলাগিরির উত্তর-গা ঘেঁষে সিধে পশ্চিম-মুখে মানস-সরোবরে।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৫
  • দিনের আলাে আসছে ঘােলা হয়ে। মন-খারাপ নিয়ে একবার ছাদটা ঘুরে আসা গেল, নীচের দিকে দেখলুম তাকিয়ে— পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো উঠে গিয়েছে। লোকজনের আনাগোনা আরম্ভ হয়েছে ঘাটে, বট গাছের ছায়া পড়েছে অর্ধেক পুকুর জুড়ে, রাস্তা থেকে জুড়িগাড়ির সইসের হাঁক শোনা যাচ্ছে।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ছেলেবেলা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭
  • বুনো-হাঁসের ডাক শুনে সুবচনীর খোঁড়া হাঁস উড়ে পড়তে আনচান করতে লাগল। সে বকতে লাগল—“এইবার একদল হাঁস এলে হয়, ঝপ করে উড়ে পড়ব! আর পারিনে বাপু মাটিতে খুঁড়িয়ে চলতে!”
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮
  • হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
    হয়ে গেলে 'হাঁসজারু' কেমনে তা জানি না
    • সুকুমার রায় (খিচুড়ি), সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- সুকুমার রায়, প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২
  • খোঁড়া হাঁসের ডাক বালু-হাঁসেরা শুনেছিল বোধ হয়, তাই মাথার উপরে ঘুরে-ঘুরে তারা দেখতে লাগলো যাত্রী আসছে কি না! সুবচনীর হাঁস আবার চেঁচিয়ে বললে—“রও ভাই, একটু রয়ে!” তারপর যেমন সে উড়তে যাবে, অমনি রিদয় লাফ দিয়ে তার গলা জড়িয়ে—“আমিও যাব” বলে ঝুলে পড়ল!
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮
  • হাঁসের ছানার মতাে পাখনায় ভিজে
    ছােটো এক পুকুরের পাড়ে
    আমরা সেখানে থাকি;
    • জীবনানন্দ দাশ, শিকার (সংলাপ কবিতা), বনলতা সেন- জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- নিউ স্ক্রিপ্ট, কলকাতা, অষ্টম মুদ্রণ: অগ্রহায়ণ ১৪২৪ (নভেম্বর ২০১৭), পৃষ্ঠা ৮৬
  • পাগলা-ঝোড়া ঝরনা শাদা পৈতের মতো পাহাড়ের গা বেয়ে গাছ-পালার মধ্যে দিয়ে ঝুলে পড়েছে—এই পাহাড়ের দেওয়াল ডিঙিয়ে হাঁসেরা কার্সিয়ংয়ের মুখে চলল—পাংখাবাড়ি থেকে কারসিয়ং দুধারে ঝরনা আর চা বাগান সবজী-খেত, থাকে-থাকে পাহাড়ের গায়ে পাহাড়ি বস্তি, সাহেবদের কুঠি, কার্সিয়ং শহরটা যেন আর একটা ঝরনার মতো দেখা যাচ্ছে—পাহাড়ি গোলাপ গেঁদা গাছা-আগাছার কুঁড়ি ধরেছে।
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, টুং-সোন্নাটা-ঘুম, বুড়ো আংলা- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭৭
  • হয়তো বা হাঁস হ’ব—কিশোরীর—ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
    সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
    আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
    জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;
    • জীবনানন্দ দাশ, রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
  • সেদিন দুপুর রাত্রে, রাজার বাগানের পাহাড়াওয়ালা দেখ্‌তে পেল, বাগানের পুকুরে একটী শাদা ধব্‌ধবে রাজহাঁস এসেছে। পাহাড়াওয়ালাকে দেখে হাঁসটি তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা কর্‌ল, “রাজা কি করছেন?”
    পাহাড়াওয়ালা বল্‌ল, “ঘুমচ্ছেন।”
    হাঁস বল্‌ল, “আমার খোকা কি করছে?”
    পাহাড়াওয়ালা বল্‌ল, “ঘুমচ্ছে।”
    হাঁস বল্‌ল, “আমার হরিণ কি কর্‌ছে?”
    পাহাড়াওয়ালা বল্‌ল, “ঘুমচ্ছে।”
    তখন হাঁস “আমি, কাল আবার আস্‌ব” বলে চলে গেল।
    • সুখলতা রাও, ভাই বােন, গল্পের বই - সুখলতা রাও, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক-ইউ, রায় এণ্ড সন্স্, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯-৩০
  • জলের উপর রোদ পড়েছে
    সোনামাখা মায়া,
    ভেসে বেড়ায় দুটি হাঁস
    দুটি হাঁসের ছায়া।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পুরোনো বট, শিশু- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৬
  • মাটির উপর দিয়ে খোঁড়া হাঁসের সঙ্গে পায়ে হেঁটে যাওয়া এক, আর এক-কুড়ি-একটা উড়ন্ত হাঁসের হাঁক-ডাক, চলন্ত ডানার ঝাপটার মধ্যে বসে ঝড়ের মতো শূন্যে উড়ে চলা আর এক! বাতাস তোলপাড় করে চলেছে হাঁসের দল! কুড়ি-জোড়া দাঁড়ের মতো ঝপাঝপ উঠছে-পড়ছে জোরাল ডানা! রিদয় দেখছে কেবল হাঁস আর পালক বিজবিজ করছে! শুনছে কেবল বাতাসের ঝপঝপ, সোঁ-সোঁ, আর থেকে-থেকে হাঁসেদের হাঁক-ডাক!
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলন বিল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৯-৩০
  • রাজপুত্র হেসে হেসে কহেন তখন।
    “ভাল ভাল হাঁস আমি করি প্রত্যর্পণ॥
    একটা হাঁসের তরে এতটা লাঞ্ছনা।
    রক্তদানে বাঁচাইনু সে কথা ভাব না॥”
    এত বলি হাঁস আনি দিল সম্মুখেতে।
    দেখিয়ে আশ্চর্য্য অতি হয় সকলেতে॥
    তখন সে জমিদার কহে, “এ কি হল?
    কেমনেতে হাঁস তবে ফিরে পা(ও)য় গেল॥
    • কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, বেল্লিক রামায়ণ - কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২১১-২১২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]