বিষয়বস্তুতে চলুন

চাতক

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
বাবুই কোথা বাসা বোনে—
চাতক বারি যাচে রে?
সে আমাদের বাংলা দেশ,
আমাদেরি বাংলা রে!
~ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

চাতক কুকুলিডি পরিবার ও ক্ল্যামেটর গণের অন্তর্গত এক ধরনের পাখি। চাতকের আকৃতি ঘুঘু,কোকিল ইত্যাদি পাখির মতন। এই পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। প্রচলিত লোকশ্রুতি হিসাবে চাতক মেঘের বা বৃষ্টির জল পান করে। এ ছাড়া নদী, পুকুর বা অন্য কোন জলাধারের জল পান করেনা। তাই সব সময় আকাশের দিকে চেয়ে বৃষ্টির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। কখন একটু বৃষ্টি নামবে সেই প্রতীক্ষায় থাকে চাতক।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • বাবুই কোথা বাসা বোনে—
    চাতক বারি যাচে রে?
    সে আমাদের বাংলা দেশ,
    আমাদেরি বাংলা রে!
    • কোন দেশে - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কাব্য-সঞ্চয়ন, প্রকাশক- এম. সি. সরকার এন্ড সন্স লিমিটেড, প্রকাশস্থান- কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩
  • কোথায় যেন করুণ সুরে
    চাতক পাখী ডাকছে দূরে,
    ঘরের চালে ভিড় করেছে
    ঝোড়ো-কাকের দল।
    আবার এলো জল।
    • আবার এলো জল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৫
  • বৃষ্টির পূর্ব্বে ইহারা যে শব্দ করে, তাহা যেন ঠিক ‘শোভিগ’ অথবা কোথাও ‘তফিক’এর মত শুনা যায়। বোধ হয় এইরূপ ধ্বনি করে বলিয়া উহা তফিক্ নামে পরিচিত। হইতে পারে যে, আসন্ন বর্ষায় কোমল করুণ তীব্র কণ্ঠস্বরে চাতকের এই স্বাগতধ্বনি শুনিয়া আকাশ-মার্গে উড্ডীয়মান উন্নমিতচঞ্চু চাতককে অম্ভোবিন্দুগ্রহণচতুর বলিয়া কল্পনা করা হইয়াছে।
    • পাখীর কথা - সত্যচরণ লাহা, তৃতীয় ভাগ, প্রকাশক- বেঙ্গল বুক কোম্পানী, প্রকাশস্থান- কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ (১৩২৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬১
  • মেঘপানে চাতকের বিধান
    অন্য জল সে করে না পান
    লালন কয়, জগতে প্রমাণ
    ভক্তির জ্যেষ্ঠ সেহি ভক্তি॥
    • লালন-গীতিকা- লালন, সম্পাদক- মতিলাল দাশ ও পীযূষকান্তি মহাপাত্র, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭৩
  • তখন কাতরে রব করিল চাতক;
    নাড়িল চোয়াল গোপ, হইল চমক।
    এক মুটি লয়ে ফের আর মুটি লয়,
    চাতক ছাড়িছে গলা;—থামিবার নয়;
    ‘ফটীক, ফটীক জল,’ বলে বার বার,—
    চাল ছোলা চিবাইতে হল তাহে ভার;
    • অক্ষয়চন্দ্র সরকার, চাতক, গোচারণের মাঠ - অক্ষয়চন্দ্র সরকার, প্রকাশক— সাধারণী যন্ত্রালয়, প্রকাশস্থান— চুঁচুড়া, প্রকাশসাল— ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দ (১২৮৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৩
  • আকাশে, কোথায় তখন একটা চাতক পাখী থামিয়া থামিয়া কাতরে ডাকিতেছিল—‘ফটিক জল!’ সেই তৃষিত কণ্ঠের করুণ কামনা শুনিতে শুনিতে তাহার সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে বিরামদায়িনী নিদ্রা আসিয়া কখন যে তার চোখের পাতা বন্ধ করিয়া দিল, তাহা সে জানিতেও পারিল না।
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়, স্মৃতির শ্মশানে, পসরা - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রকাশক— বৈদ্যবাটী-যুবক-সমিতি, প্রকাশস্থান— বৈদ্যবাটী, প্রকাশসাল— ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩২২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৮
  • উড়িয়া মেঘের দেশে চিল কহে ডাকি',
    “কি কর, চাতক ভায়া, ধূলি মাঝে থাকি!
    কোথায় উঠেছি, চেয়ে দেখ একবার,
    এখানে উঠিতে পার সাধ্য কি তোমার?

    চাতক কহিছে, “তবু নীচ দৃষ্টি তব;
    সদা ভাব ‘কার কিবা ছোঁ মারিয়া লব’।
    মেঘবারি ভিন্ন অন্য জল নাহি খাই,
    তাই আমি নীচে থেকে উর্দ্ধমুখে চাই।”
    • রজনীকান্ত সেন, উচ্চ-নীচ, অমৃত - রজনীকান্ত সেন, প্রকাশক- অমিয়রঞ্জন মুখােপাধ্যায়, প্রকাশস্থান- কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭
  • চাতক কাতরে ডাকে, চরে বক নদী-বাঁকে,
    ডাকে কুবো কুব্ কুব্ লুকায়ে কোথায়!
    গাভী শুয়ে তরুতলে, হংসী ডুবে উঠে জলে,
    ডিঙ্গাখানি বেঁধে কুলে জেলে ঘরে যায়।
    • অক্ষয়কুমার বড়াল, মধ্যাহ্নে, শঙ্খ- অক্ষয়কুমার বড়াল, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, কলিকাতা, প্রকাশকাল- আশ্বিন, ১৩২০ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা ১২১

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]