বিষয়বস্তুতে চলুন

কলম

উইকিউক্তি, মুক্ত উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন থেকে
* হে কলম! হে লেখনী! আর কতোদিন
ঘর্ষণে ঘর্ষণে হবে ক্ষীণ?
আর কতো মৌন-মূক, শব্দহীন দ্বিধান্বিত বুকে
কালির কলঙ্ক চিহ্ন রেখে দেবে মুখে?
সুকান্ত ভট্টাচার্য

কলম বা লেখনী প্রধানত লেখালেখির কাজে ব্যবহৃত একটি উপকরণ। কলম দিয়ে কাগজ বা কোন পৃষ্ঠতলের উপরে কালির সাহায্যে লেখার কাজ করা হয়।

উক্তি

[সম্পাদনা]
  • হে কলম! হে লেখনী! আর কতোদিন
    ঘর্ষণে ঘর্ষণে হবে ক্ষীণ?
    আর কতো মৌন-মূক, শব্দহীন দ্বিধান্বিত বুকে
    কালির কলঙ্ক চিহ্ন রেখে দেবে মুখে?
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, কলম, ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮
  • জীবন এক দিকে একটা পথ আঁকিয়া চলিতেছে, তুমি যদি ঠিক তার পাশে কলম হস্তে তাহার অনুরূপ আর একটা রেখা কাটিয়া যাও, তবে ক্রমে এমন অবস্থা আসিবার সম্ভাবনা, যখন বোঝা শক্ত হইয়া দাঁড়ায়, তোমার কলম তোমার জীবনের সমপাতে লাইন কাটিয়া যায় না তোমার জীবন তোমার কলমের লাইন ধরিয়া চলে। দুটি রেখার মধ্যে কে আসল, কে নকল, ক্রমে স্থির করা কঠিন হয়।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পরিচয়, পঞ্চভূত - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭
  • নিরীহ কলম, নিরীহ কালি,
    নিরীহ কাগজে লিখিল গালি—
    ‘বাঁদর, বেকুব, আজব হাঁদা,
    বকাট ফাজিল, অকাট গাধা!’
    • সুকুমার রায়, আশ্চর্য, সুকুমার সমগ্র রচনাবলী- প্রথম খণ্ড, সম্পাদনা- পুণ্যলতা চক্রবর্তী, কল্যাণী কার্লেকর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ১৭২
  • পিয়ারী একটুখানি ম্লান হাসি হাসিয়া বলিল, কি জানো কান্তদা, যে কলম দিয়ে সারা-জীবন শুধু জালখত তৈরি করেচি, সেই কলমটা দিয়েই আজ আর দানপত্র লিখতে হাত সরচে না। যাবে? আচ্ছা যাও! কিন্তু কথা দাও—আজ বেলা বারোটার আগেই বেরিয়ে পড়বে?
    • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব), দশম পরিচ্ছেদ, শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব)-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক-গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স, সপ্তদশ মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ১৫০-১৫১
  • কলমের রেখা মৌন, সঙ্গীত হচ্ছে ধ্বনিময়। কলম দিয়ে আঁকা যায় বড়-জোর শব্দছবি, কিন্তু বিভিন্ন ভাবে বিচিত্র বিভিন্ন তালে ছন্দোময়, বিভিন্ন রাগ-রাগিণীতে উচ্ছ্বসিত সেই মুখর বীণার জীবন্ত ভাষাকে যথাযথরূপে ফুটিয়ে তোলবার ক্ষমতা কোন লেখকের আছে ব’লে মানি না।
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়, যাঁদের দেখেছি - হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশক— নিউ এজ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলিকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬০-৬১
  • আফিসের কলম ছাড়িয়া আসিয়া আবার কলম ধরিয়া বসিয়া যাইতেন। তাঁহার জননী এই গুরুতর শ্রমের প্রতিবাদ করিয়া টিক্ টিক্‌ করিতেন। বলিতেন “ওরে মানুষের শরীরে এত শ্রম সবে না, ওরে মারা পড়বি, ওরে কলম রাখ।” তদুত্তরে তিনি বলিতেন —“মা, তোমার সব কথা শুনবো, কিন্তু এই গরীব প্রজাদের জন্যে যা করছি তাতে বাধা দিও না, ওরা ধনে প্রাণে সারা হলো, এ কাজ না করে আমি ঘুমাতে পারবে না।”
    • শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশসাল- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৬ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২২২-২২৩
  • ছয় দিনের দিন ঘরে দোয়াত কলম দেওয়া হইল। এই রাতে চিত্রগুপ্ত আসিয়া সেই দোয়াত হইতে কালি তুলিয়া সেই কলমের সাহায্যে শিশুর কপালে লিখিয়া যায় তার ভাগ্যলিপি।
    • অদ্বৈত মল্লবর্মণ, জন্ম মৃত্যু বিবাহ, তিতাস একটি নদীর নাম- অদ্বৈত মল্লবর্মণ, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রকাশক- পুথিঘর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৬১
  • কলম, তুমি কত না যুগ কত না কাল ধ’রে
    অক্ষরে অক্ষরে
    গিয়েছে শুধু ক্লান্তিহীন কাহিনী শুরু ক’রে,
    কলম, তুমি কাহিনী লেখাে, তােমার কাহিনী কি?
    দুঃখে জ্বলে তলােয়ারের মতন ঝিকিমিকি?
    • সুকান্ত ভট্টাচার্য, কলম, ছাড়পত্র- সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রকাশক- সারস্বত লাইব্রেরী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৫৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৭
  • একদিন হস্তের কলম গো ভূমিতে পড়িল।
    সেই কলম সাধুর পুত্রু হস্তে তুল্যা দিল॥
    সত্য কইর্‌লাম রাজার কন্যা গো কলম হাতে লইয়া।
    শুন শুন সাধুর পুত্রু তোমায় করবাম বিয়া॥
    • অজ্ঞাত, সন্নমালা, পুর্ব্ববঙ্গ গীতিকা - দীনেশচন্দ্র সেন, চতুর্থ খণ্ড, প্রকাশক- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থা, প্রকাশসাল- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৮৬
  • আমি কলম ছুঁড়িয়া ফেলিয়া, বৃহৎ খাতা বন্ধ করিয়া তৎক্ষণাৎ টম্‌টম্‌ চড়িয়া ছুটিলাম। দেখিলাম, টম্‌টম্‌ ঠিক গোধূলি মুহূর্ত্তে আপনিই সেই পাষাণপ্রাসাদের দ্বারের কাছে গিয়া থামিল। দ্রুতপদে সিঁড়িগুলি উত্তীর্ণ হইয়া ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিলাম।
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুধিত পাষাণ, গল্প-দশক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশসাল- ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দ (১৩০২ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৮৪
  • বাবার যত কাজের খাতায়
    কলম দিয়ে পাতায় পাতায়।
    আপন মনে হিজিবিজি আঁচড় কত আঁকে,—
    খিল্‌খিলিয়ে উঠবে হেসে যতই বকো তাকে।
    • সুনির্মল বসু, কাজের মেয়ে, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১১৩
  • আমরা গুরুমশায়ের কাছে ক খ, বানান নামতা, কড়াঙ্কে, ষটকে —এই সব শিখতুম, তাছাড়া চিঠিপত্র লেখা অভ্যাস করতুম। যত ওঁচা ফ্যালা, জিনিষ মোড়বার মত ব্রাউন কাগজ আনা হত, —শ্রীরামপুরের সাদা কাগজ যেদিন আসত খুব ভাগ্যি মনে করতুম। এই কাগজের উপর বাঙলা কলম দিয়ে আঁচড়কাটা— সেই আমাদের পত্রলেখা।
    • নবগোপাল মিত্র, আমার বাল্যকথা- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বৈতানিক প্রকাশনী, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৭ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]