শালিক
অবয়ব

শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে
শেয়ালের হাঁক।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শালিক বা শালিখ হলো স্টার্নিডি গোত্রের অন্তর্গত একদল ছোট ও মাঝারি আকারের পাখি। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং বিষুবীয় অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে শালিক দেখা যায়। শালিক বেশ কয়েক ধরনের হয় যেমন, গো-শালিক, ভাত শালিক, গাঙশালিক, বামন-শালিক ইত্যাদি। শালিকের স্বরতন্ত্রী বেশ জটিল হওয়ায় এদের ডাক বিচিত্র ও বিভিন্ন স্বরে ওঠানামা করে। গায়ক পাখি হিসেবে শালিকের সুনাম রয়েছে। তবে কাঠ-শালিক সবচাইতে ভালো গাইতে পারে। শালিক সমাজিক পাখি। এরা দলবেঁধে ঘোরে।
উক্তি
[সম্পাদনা]- কিচিমিচি করে সেথা
শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে
শেয়ালের হাঁক।- ছােটো নদী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রবিচিত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ (১৩৯৮ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ১৭
- মনে পড়ে সেই নদীর চড়ার শালিখ পাখীর দল,
শালুক ফুলের মধু খেতে এসে করে শুধু কোলাহল;
হাততালি দিয়ে শালিখ তাড়াই, পালায় পাখীর কুল,
তুলে নিয়ে আসি মায়ের পূজায় শালুক পদ্মফুল।- শ্রীপঞ্চমীর ভোর - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৬৮
- ক্রমে চারদিক আলোতে আলোময় হয়ে উঠল; অন্ধকারের ভয় দেখতে-দেখতে কোথায় পালাল; আর অমনি কত পাখি, কত জীব-জন্তুই না বনে ছুটোছুটি আরম্ভ করলে! লাল-টুপি-মাথায় কাঠঠোকরা ঠকাস-ঠকাস গাছের ডালে ঘা দিতে বসে গেল, কাঠবেরালি অমনি খোপ ছেড়ে গাছের তলায় বসে কুটুস-কুটুস বাদাম ছাড়াতে লেগে গেল; গাং শালিক, গো-শালিক, ছাতারে, গাছের তলায় নেমে শুকনো পাতা উল্টে-উল্টে কিড়িং ফড়িং ধরে-ধরে বেড়াতে লাগল; আগ-ডালে বসে শ্যামা-দোয়েল শিস দিতে আরম্ভ করলে।
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শৃগাল, বুড়ো আংলা-অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, প্রকাশস্থান-কলকাতা, প্রকাশসাল-১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬০ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৩
- জড়সড় দেহ মোর,—বড় শীত ভাই,
রোদ-ছাওয়া দাওয়াটায় বসি এসে তাই;
দুরে দেখি ফাঁকা মাঠে আলো ঝলমল,
শালিখের ঝাঁক সেথা করে কোলাহল।- শীতের সকাল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭১
- সকল ব্যাঙ ঘোঁৎ-ঘোঁৎ করে বললে, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, যাব, যাব।’ তারপর শিয়াল শালিকদের কাছে গিয়ে বললে, ‘ভাই সকল, আমার বন্ধুর বিয়ে, তোমাদের নিমন্ত্রণ। তোমরা গান গাইতে যাবে।’
শালিকের দল কিচির-মিচির করে বললে, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, যাব, যাব।’- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বোকা জোলা আর শিয়ালের কথা, টুনটুনির বই- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, প্রকাশক- দেব সাহিত্য কুটীর, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩০
- পাঠশালাটি
দোকান-ঘরে,
গুরু মশাই
দোকান করে!
পোড়ো ভিটের
পোতার পরে
শালিক নাচে,
ছাগল চরে।- পাল্কীর গান - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, কুহু ও কেকা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রকাশক- ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ (১৩১৯ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪
- কোথাও নিবিড় আখের বনে
শালিক চরিছে আপন-মনে॥
কোথাও ধূধূ করে বালুচর,
সেথায় গাঙশালিকের ঘর।- নদী - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিশু - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রকাশক- বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, প্রকাশস্থান- কলকাতা, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (১৪২৬ বঙ্গাব্দ),পৃষ্ঠা ৯০
- আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।- রূপসী বাংলা - জীবনানন্দ দাশ, প্রকাশক- সিগনেট প্রেস, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৬৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ২৪
- ভিজে মাঠ, ভিজে ঘাট, শিশির শীতল,
ভিজে ভিজে পথখানি হয়েছে পিছল।
করবীগাছের ডালে রোদ স’রে যায়
শালিকের ছোট ছানা পালখ শুকায়।- শীতের সকাল - সুনির্মল বসু, সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা- সুনির্মল বসু, প্রকাশক- মিত্র ও ঘোষ, কলকাতা, প্রকাশসাল- ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দ), পৃষ্ঠা ৭২
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]উইকিপিডিয়ায় শালিক সম্পর্কিত একটি নিবন্ধ রয়েছে।
উইকিঅভিধানে শালিক শব্দটি খুঁজুন।